পুলিশে পাওয়া এ চাকুরী আমার পরিবারের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার

ইয়ামিন হোসেন/মাহে আলম মাহী : মাত্র ১২০ টাকার আবেদন ফি দিয়েই ঘুষ ও তদবিরমুক্ত এক স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া পেরিয়ে পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেলেন ভোলার ইসমাইল হোসেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যায় ভোলা পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজন করা হয় ফলাফল ঘোষণা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, যেখানে পুলিশ সুপার মো. শরীফুল ইসলাম নবনিযুক্ত সদস্যদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
পুলিশ ও পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে সুযোগ পাওয়া ইসমাইলের দাবী, এই নিয়োগের প্রতিটি ধাপেই ছিল কঠোর যাচাই ও নিরপেক্ষতা। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা নিজেদের মেধা, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কেউ দিনমজুরের ছেলে, কেউবা রিকশাচালকের মেয়ে, কেউ চা বিক্রেতার মেয়ে। অনেকের পিতা নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হওয়া অধিকাংশরাই মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এই নিয়োগ শুধু একটি চাকরি নয়, বরং একটি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের সূচনা বলেও দাবী করেন ইসমাইল।
পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে সুযোগ পাওয়া ইসমাইল ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ৬নং ওয়ার্ডের চর আনন্দ গ্রামের আবুল খায়ের ও মাসুমা দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে।
ইসমাইল বলেন, পুলিশের এ চাকুরী আমার পরিবারের জন্য শ্রেষ্ঠ পাওয়া। দুইবার মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত গিয়েও সফল হতে পারিনি। অবশেষে এ বছর সফল হলাম। আমার বয়স ও শেষ ছিল। মাত্র ১৯ দিন পুলিশে দাঁড়ানোর বয়স ছিল। শেষ সময়ে সফল হয়ে শুকরিয়া আদায় করছি মহান আল্লাহ প্রতি।
আমার বাবা একজন দিনমজুর, মা গৃহিণী, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমাকে পড়াশোনা করিয়েছে। গ্রামের অনেকে বলতো টাকা চাকুরী হবে না কিন্তু আমি মাত্র ১২০ টাকা দিয়ে চাকুরী পেয়েছি। চেষ্টা করবো আমি যে সৎ ভাবে চাকুরী পেয়েছি। চাকুরী জীবনেও সে সৎ ভাবে চলার।
আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন। ইসমাইল ২০২১ সালে ভোলার নিজামুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি ও ২০২৩ সালে ভোলা সরকারী কলেজ থেকে একই বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
