জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৭৯

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : আজমীর শরীফ ও তাজমহল ভ্রমণ :
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু
দেখি নাই শুধু চক্ষু মেলিয়া
ঘর থেকে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপর
একটি শিশির বিন্দু।
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
জীবন চলার চথে কত জায়গা ঘুরেছি। চিটাগং, কক্সবাজার, জাফলং, হিমছড়ি, নাফ কুমারি, টেকনাফ, রাঙ্গামাটি, কাপ্তাই, ফয়েজ লেক, আমেরিকা, ওয়াশিংটন ডি.সি., ডিজনীল্যান্ড, কানাডা, অটোয়া, টরেন্টো, মিশিগান। কিন্তু এবার ইন্ডিয়ার পথে যে সব জায়গা দেখেছি তা আমার জীবনে এক পরম বিস্ময়কর।
দিল্লী যেয়ে সেখান থেকে টেক্সি রিজার্ভ করে আজমীর শরীফ যাওয়ার পথে দীর্ঘ দুই ঘন্টা পাড়ি দিয়ে জয়পুর পোঁছে গেলাম। রাজস্থানের উপর দিয়ে জয়পুর আম্বার পোর্ট দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম, নীচের রাস্তা থেকে কি বিশাল বিস্তৃত পাহাড়ের গা বেয়ে জীপ গাড়ি এঁকে বেঁকে উপরে উঠে রাজ প্রাসাদের সামনে নামিয়ে দিল।
কি কারুকার্য খচিত বেলজিয়াম কাঁচের দ্বারা কত লতা, পাতা, ফুল আঁকা প্রাসাদ, কি করে এত উঁচুতে এই বিশাল পর্বতের উপরে মানুষের কত বছরের পরিশ্রম এই প্রাসাদ ও পোর্ট তৈরী হয়েছে। তা ভাবতেও বিস্ময় বোধ হয়। অনেক ক্ষণ গুরেফিরে দেখে বিশে^র বিস্ময় নিয়ে আবার জীপে করে আঁকা বাঁকা পাহাড়ের গা বেঁয়ে নিচে নেমে এলাম।
রাত হয়ে এল, জয়পুরের এক নামকরা হোটেলেই রাত কাটালাম। খুব ভোরে নাস্তা খেয়ে আজমীর শরীফের পথে পাড়ি জমালাম। বিকাল চারটার মধ্যেই আজমীর শরীফ পৌঁছে গেলাম। কি এক ত্যাগ-তিতিক্ষা, সাধনা ও তপস্যার ক্ষেত্রে, তা চোখে না দেখলে বিশ^াস হয় না। আছরের নামাযের সময় আমরা সেখানে পৌঁছে দেখি এক বিশাল আরাধনার ক্ষেত্র। তখন রোযার মাস। মানুষ খোদার দরগায় কি আর্তি, মিনতি, কি ব্যাকুল প্রার্থনা, রোযা রেখে কি কায়মন বাক্যে পরম করুণময় আল্লাহর কাছে এক নীরবে চাওয়া ও পাওয়ার প্রার্থনায় মশুগুল।
আমার শরীরটা ভাল লাগছিল না বলে আমি আছরের নামাযের সময় চলে এলাম। এত ঠান্ডা হাত, পা যেন জমে এলো, রাত ভোর হলো। নাস্তা খেয়ে আবার আজমীর শরীফে চার রাকাত নফল নাময আদায় করে আগ্রার পথে পাড়ি জমালাম।
র্দীঘ আট ঘন্টার পথ অতিক্রম করে বেলা পাঁচাটার সময় আগ্রা পোর্টে পৌঁছলাম। যেখানে স¤্রাট শাহজাহানকে ঔরংজীব বৃদ্ধ বয়সে বন্ধি করে রেখেছিল। সেখানে এসে পৌঁছালাম, আমি ইতিহাসের ছাত্র ছিলাম। আমার শাহজাহান বইটা পাঠ্য পুস্তক ছিল।
একবার র্ভাসিটিতে শাহজাহান নাটকে শাহজাহানের ভূমিকায় অভিনয় করে, গোল্ড মেডেলও পেয়েছিলাম। আমার কানের কাছে যেন ঘুম ঘুম করে বাজতে লাগল জাহানারা আমি সাগ্রহে ঔরঙ্গজীবের অপেক্ষা করছি। সে আমার পুত্র, আমার উদ্ধত বিজয়ীপুত্র, আমার লজ্জা, আমার গৌরব।
অনেকক্ষণ ঘুরেফিরে আগ্রা পোর্টকে দেখলাম সেখানে জানালার কাঁচের ফাঁক দিয়ে তাজমহলের স্মৃতিস্তম্ভ লক্ষ্য করা যায়। তাই বুজি শাহজাহান মাজে মধ্যে দীর্ঘশ^াস ফেলে বলতো, মমতাজ তুমি বড় ভাগ্যবতী। তাই তুম আগেই মরে গিয়েছ।
সন্ধ্যা হয়ে এলো। দ্বার রক্ষীরা পোর্টের বিশাল দরজা বন্ধ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমার যেন কানের কাছে ঘুম ঘুম করে বাজতে লাগল । আর পুত্রদের বুকের উপর রেখে ঘুম পাড়িও না। তাদের হাসিটি দেখার জন্য তোমার ¯েœহের হাসিটি হেসো না। তারা সব কৃতজ্ঞতার অঙ্কুর, তাদের দু’বেলা আধা পেটা খাইয়ে মানুষ কর। তাদের সকালে বিকালে জোরে জোরে কষাঘাত করো, তারা সব শিশু শয়তান।
(চলবে——-)।
