সর্বশেষঃ

ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট যেন চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য ॥ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রে’র অভিযান

চাঁদাবাজি ধান্দার কাছে জীবনযাত্রা বাঁধা পড়েছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি ঘাটে যানবাহন চালকদের। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই চলছে চাঁদাবাজির এক মহা ধকল। ব্যবসা-বাণিজ্য নিশ্চিত রাখতে, ঘাটে ঘাটে ফেরিতে উঠতে, সর্বোপরি প্রাণ বাঁচাতেও কাউকে না কাউকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। সম্প্রতি-চাঁদাবাজদের কবল থেকে রক্ষা পেতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য পেতেও দিতে হয় আরেক ধরনের চাঁদা। তেমনি দক্ষিণ বাংলার সর্ববৃহৎ প্রবেশদ্বার ভোলার ইলিশা ফেরি ঘাটকেও চাঁদাবাজির অভয়াশ্রম করে বসেছে একটি কু-চক্রীমহল।
বাসা-বাড়িতে নবজাতক জন্মালে যেমন চাঁদার হাত বাড়ায় একদল হিজড়া, তেমনি ইলিশা ঘাটে পন্যবাহী ট্রাক আসলেই নিরবে চাঁদার হাত বাড়ায় ১) সাখাওয়াত (প্রান্তিক সহকারী), ২) হানিফ (ইজারাদারের কর্মচারী) ৩) মনির (রেকারচালক) ৪) মিন্টু (ট্রান্সপোর্ট) ৫) আবুল (পল্টন লস্কর) ৬) নাজির (অফিস সহকারি) ৭) সাহালম (অফিস সহকারি) ৮) লোকমান (ট্রান্সপোর্ট) ও ৯) রাজিব এরা ট্রাক লড়িকে ঘিরে সামনে পিছে বাড়াও বলে তার আড়ালে কৌশলে কেবলই চাঁদা খুঁজে।
এদিকে ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে অতিরিক্ত প্রতি যানবাহন থেকে ৩০০/৪০০ টাকা হাড়ে নেয়ার অভিযোগের সত্যতা থাকলেও অভিযুক্ত সাখাওয়াত বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত টাকা নেয়া ও টাকার ভাগ কোথায় কোথায় যায় ? এ বিষয়ে সাখাওয়াতকে জানতে চাইলে তিনি বার বার তার অফিসে এসে কথা বলার অনুরোধ জানান।
এখানকার ফেরির উদ্দেশ্যে আসা সকল যানকেই ২-৩দিন অপেক্ষা করা থেকে সব ধাপেই সংশ্লিষ্টদের চাহিদা পূরণ করতে হয় চালকদের। প্রশাসন ভিবিন্ন সময় এর প্রতিকার নিলেও চাঁদাবাজি থামছে না কিছুতেই। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরে আবারও চাঁদাবাজি শুরু হয় নতুন কৌশলে। ধাপে ধাপে শুধু কৌশল পরিবর্তন হয় কিন্তু চাঁদামুক্ত হয়না। ইলিশার সুদেরহাট থেকে শুরু করে ফেরিতে উঠা পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করে চলছে চাঁদাবাজরা।


এ ঘাটে চাঁদাবাজির ধরনেও নানা আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে, পাল্টে গেছে চাঁদার পরিমাণ ও স্টাইল। আগে কেবল দু’একজন চাঁদাবাজি করত। এখন তাদের সাথে যোগ হয়েছে টি,এ ও টি,সি এর কর্মরত কর্মচারী কর্মকর্তাগণ। প্রশাসনের লোক কিংবা সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেলেই নতুনরা তুলেন নির্ধারিত পরিমানের টাকা।
সুদেরহাট থেকে ঘাট এলাকা পর্যন্ত চলে মোটা অংকের টাকার চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট এসব টাকা ভাগ করে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিচুদিন আগে ঘাট এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল প্রশাসন কিন্তু নগদ টাকার ছড়াছড়ি থাকায় নানা উদ্যোগে আবারও ফেরিঘাটের ফুটপাথ দখল করে উঠতে শুরু করেছে দোকানপাট এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ যাত্রী ও যানবাহণ। পরিবহন সেক্টরে বিস্তর চাঁদাবাজি, পরিবহন সেক্টরের এই চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য থামানোর সাধ্য যেন কারও নেই এমনটাই বলেন এ ঘাটে অপেক্ষমান ট্রাক চালকেরা।
তবে নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন চাঁদা উত্তোলনকারী জানান, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এই কালেকশন ও দোকান বসানোর জন্য টাকা আদায় করতে সাহায্য করেন এবং এরাই টাকা নেন। চালকরা বলেন, চাঁদাবাজদের পক্ষে স্থানীয় নেতারা ও বিআইডব্লিউটিসি ও টি,এ, এর অসাধু কর্মকর্তা অবস্থান নেয়ায় প্রশাসনের সব উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এ পয়েন্টের চাঁদাবাজি এখন অপ্রতিরোধ্য রূপ নিয়েছে। চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় আজ (২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার) সকালেও চাঁদাবাজদের সাথে চালকদের মারামারি সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন চালকরা।
ট্রাকচালকরা আরো জানান, আগে সাধারণত ঘাট থেকে উঠে একজন সার্জেন্টকে ১০০ টাকা দিয়ে স্লিপ সংগ্রহ করলে সহরের মধ্যে আর কোথাও পুলিশকে চাঁদা দিতে হতো না। কিন্তু বর্তমানে এক সার্জেন্ট অন্য সার্জেন্টের স্লিপকে পাত্তা দেন না, আলাদা আলাদাভাবেই টাকা দিতে হয়। চাঁদার মহোৎসব চলছেই-ঘাট চাঁদা, স্পট চাঁদা; পুলিশি চাঁদাও চলে বাধাহীনভাবে। তবে পুলিশের সহকারী পরিচয় বিক্রি করে এই ভোলা লক্ষীপুর সড়কে চাঁদা তুলেন জৈনেক সুমন নামের এক কর্তাব্যাক্তি এমনটাও বলেন চালকরা। চালকরা বলেন সুমন আমাদের কাছে পান সুমন বলেই পরিচিত।
সবকিছুর সঙ্গে পাল্লা দিয়েই চলে চাঁদাবানিজ্য। দেশের পূর্ব-দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাসমূহের একটি প্রবেশদ্বার ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি, এ রুটে চলাচলরত দুই সহস্রাধিক যানবাহন থেকে ফ্রি-স্টাইলে চলছে চাঁদাবাজি। অপরদিকে ইলিশা বিশ্বরোড ঘাটেও চলমান অনিয়মের অভিযান করেন ম্যাজিস্ট্রেট। সেখানে দুটো লঞ্চঘাটের প্রবেশমূল্য বিআইডব্লিউটিএ কালেকশন করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার কথা রয়েছে বলে জানান প্রাক্তন ইজারাদার।
তবে জনৈক নিজাম নামে এক ব্যক্তি কালেকশন করছেন বলে জানা গেলে এ বিষয়ে সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটি এর ভোলা ইনচার্জ কামরুজ্জামান বলেন, আসলে বিষয়টি আভ্যন্তরিন তাই ফোনে বলা যাচ্ছেনা। তবে আপনি অফিসে আসেন, আসলে আমি বুঝিয়ে বলবো।
তবে বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তা ইমরান খাঁন একাধিকবার কল করা হলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযানে অনিয়মের সত্যতা পেয়ে মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি, উল্লেখিত বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।