ভাঙ্গনে বিলীন রাজাপুরের রামদাসপুর।। মেঘনার কবল থেকে রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দাবী

নদী একূল ভাঙ্গে ওকূল ধরে এই তার নিষ্ঠুর খেলা, সকাল বেলার ধনীরে ভাই, ফকির সন্ধ্যা বেলা। যেই কথাটি আজ বাস্তবে অনুভব করছেন ভোলা সদর উপজেলা রাজাপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুরের গনেশপুর,হাজীপুর,রামদাসপুর,চরসি
হারিয়েছে বাপ দাদার, আত্মীয় স্বজনের কবর।
দ্বীপ জেলা উত্তর ভোলার সবচেয়ে শিক্ষার দিকে এগিয়ে ছিলো রাজাপুরের উত্তরাংশ, ভোলার উত্তরে মেহেন্দিগঞ্জের সাথে সিমানাবর্তী এই ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে ছয়টি ওয়ার্ডই ছিলো উত্তর রাজাপুর, যা আজ ভাঙ্গনে মাত্র একটি ওয়ার্ড রয়েছে।
ভোলার প্রভাবশালী এবং দেশের বিভিন্ন গুণিজনের জন্ম এই রাজাপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গনে বিলীন হওয়া এলাকায় ছিলো।
সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ্ আল ইসলাম জ্যাকব এর নানা বাড়ী এই রাজাপুরের বিলীন হওয়া এলাকায় ছিলো।
ভোলা সরকারী কলেজ এর সাবেক অধ্যক্ষ এন এম তাজুল ইসলাম, বরিশাল বিএম কলেজ এর সহকারী অধ্যাপক জশিমউদ্দিন, নাজিউর রহমান কলেজ এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহাবুব আলম খাঁন, প্রভাষক মোশারেফ হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা হেমায়েত উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম বুলেট চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মফিজুল ইসলাম, আবি আবদুল্লাহ্ টুনু চৌধুরী, রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী, বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খাঁন,বর্তমান ভোলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার গোলাম রাব্বি চৌধুরী সাক্ষরসহ এই গুণীজনদের বাড়ীঘর, শৈশব এলাকা আজ রাক্ষুসে মেঘনার গ্রাসে বিলীন।
ভোলা রাজাপুরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো বিলীন হলেও দীর্ঘমেয়াদী ভাঙ্গনরোধের ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনেই আজ ভোলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এই গ্রামগুলো, যা আজ স্মৃতি।
বর্তমানে চরসুলতানী ও চর রুপাপুরের একটি অংশ, যেখানে প্রায় ৭শ এর অধিক লোক বসবাস করেন।
বর্ষাকাল আসলেই ভোগান্তি পোহাতে হয়, ভোলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই চর সুলতানী ও চর রুপাপুরের মানুষের।
নদী ভাঙ্গনে আজ সর্বহারা হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জীবিকার তাগিদে ছুটে গেছেন সংবদ্ধ থাকা রাজাপুরের বিলীন হওয়া এলাকার বাসিন্দারা।
এখনো টেকসই ব্যবস্থা নিলে রাজাপুরের বিচ্ছিন্ন একটি ওয়ার্ড এবং বর্তমান চরমোহাম্মদ আলী এলাকার ভাঙ্গনরোধ করা যাবে বলে আশাবাদী রাজাপুরের সচেতন মহল।
ভোলার গণমানুষের নেতা তোফায়েল আহমেদ এর উদ্যােগে ইলিশা, কাচিয়া, ধনিয়া, শিবপুর যে ভাবে রোধ হয়েছে, এই উদ্যােগটি রাজাপুরে নিলে শতভাগ সফল হবেন বলে রাজাপু্রবাসী আশাবাদী, তারা মেঘনার কবল থেকে রাজাপুর কে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
রাজাপুরের বাসিন্দা বর্তমানে পরানগঞ্জ নিবাসী স্বাস্থ্য সহকারী মোহাব্বত আলী বলেন, শৈশবকাল কাটিয়েছি রাজাপুরের এই রাসদাসপুর এলাকায়, আজ সবই স্মৃতি।
রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ এর সভাপতি সফিকুল ইসলাম অনিক বলেন,আজও জন্মভূমি এলাকার কথা মনে পরলে চোঁখে পানি চলে আসে, কখনো ভুলতে পারবো না শৈশবের সেই স্মৃতি।
ভোলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার গোলাম রাব্বি চৌধুরী বলেন, আমার বাবা দীর্ঘবছর রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন, রাজাপুরের প্রতিটি গ্রাম আমাদের চেনা কিন্তু ভাঙ্গনে আজ সবই স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেলো।
ডাক্তার রাব্বি আরো বলেন, এখনো সময় ফেলে ছুটে যায় রাজাপুরে, করোনার মধ্যেও নিজের সামর্থ্যানুযায়ী সহযোগীতা করে এসেছি রাজাপুরের বিচ্ছিন্ন চর সুলতানী ও চর রুপাপুর এলাকার মানুষদের।
রাজাপুরের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খাঁন বলেন, রাজাপুরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ওয়ার্ড নদীতে বিলীন হয়ে গেছে, ওই ওয়ার্ডগুলো থাকলে আজ রাজাপুর হইতো জেলার মধ্যে মডেল।
মিজান খাঁন আরো বলেন, ভোলার গণমানুষের নেতা আলহাজ্ব তোফায়েল আহমেদ মহোদয় আশা করি খুব দ্রুতই রাজাপুর কে দীর্ঘমেয়াদী ভাঙ্গনরোধের ব্যবস্থা করবেন ইনশাল্লাহ।
