ভোলায় শীতের প্রকোপে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

ভোলায় কয়েকদিন ধরে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানা রোগ। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সী রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। এদের মধ্যে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীর সংখ্যাই বেশি।
ভোলা সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের একটি বেডে মেদুয়া থেকে আসা ৭ মাস বয়সী সন্তানের সেবায় ব্যস্ত মা জান্নাত বেগম। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে থেকে ঠান্ডা জনিত সমস্যায় ভুগছেন তার সন্তান ১০ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর পরীক্ষা করে দেখেন তার বাচ্চা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এখন ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন তার সন্তান।
২ মাস ২২ দিন বয়সের সুরাইয়াকে কোলে জড়িয়ে হাসপাতালের অন্য একটি বেডে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে বসে আছেন তার মা ফাতেমা বেগম। তিনি লালমোহন থেকে তার বাচ্চার চিকিৎসা নিতে ভোলা সদর হাসপাতালে এসেছেন। প্রায় ১০ দিন আগ থেকে সুরাইয়া জ্বর, কাশি ও ঠান্ডার সমস্যায় ভুগছে বলে জানালেন তিনি।
দৌলতখান উপজেলার পৌর ২ নং ওয়ার্ড থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে ১ বছরের শিশু ইয়াছিনকে নিয়ে এসেছেন মরিয়ম আক্তার। তিনি জানালেন, কয়েকদিন থেকেই তার ছেলের সর্দি-কাশি ও হালকা জ্বর আছে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো উন্নতি হয়নি।
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) ভোলা সদর হাসপাতালে সরেজমিনে এমন চিত্রই দেখা গেছে। ভোলায় শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিভিন্ন রোগ। জ্বর-ঠাণ্ডা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রজনিত নানা রোগ বেড়ে গেছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও দেখা যায় রোগী নিয়ে অপেক্ষা করছে স্বজনেরা।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে দুই মাস বয়সী সন্তান তাকওয়াকে নিয়ে ভোলা সদর উপজেলার পৌর চরজংলা থেকে এসেছেন চৈতি আক্তার। তিনি বলেন, ‘তিন দিন থেকে তাকওয়ার সর্দি। হালকা কাশি আছে। আজ হাসপাতালে নিয়ে এলাম।
ভোলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সেবিকা বলেন, আমাদের এখান থেকে প্রতিদিন ২ থেকে ৪ জন শিশু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। তবে কয়েকদিন যাবৎ শীতের প্রকোপ একটু বেড়ে যাওয়ার পরে শিশুদের রোগ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এদের বেশিরভাগের বয়স দুই বছরের মধ্যে। তবে ছয় মাস থেকে এক বছরের বয়সী বাচ্চার সংখ্যা বেশি। এই শিশুদের অনেকেই সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ রেজাউল ইসলাম বলেন, শুধুমাত্র শিশুরাই নয়, শ্বাসকষ্ট, ঠাণ্ডাজ্বর, কাশি নিয়ে অনেক রোগী আসছে যাদের বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। এখনো রোগীর সংখ্যা তেমন বৃদ্ধি পায়নি তবে যে শীত পড়েছে, আরও কয়েকদিন স্থায়ী থাকলে রোগী বাড়তে পারে।
শিশুদের ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। শীতকালে বাতাসের আদ্রতা কম থাকায় জীবাণু মুক্ত বাতাসেই উড়ে বেড়ায়। এই জীবাণু খুব সহজেই শিশুদের আক্রমণ করে। এই জীবাণু শিশুদের শরীরে প্রবেশ করলে নানা রোগের সৃষ্টি হয়। তাই তাদের ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখতে হবে। তাদের গরম কাপড় পড়ানোর পাশাপাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর রাখতে হবে এবং রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
