অদৃশ্য কারণে চরফ্যাশন বেতুয়া স্টীমার ঘাটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

ভোলা জেলার চরফ্যাশন বেতুয়া লঞ্চ ঘাটে এক সপ্তাহ যাবৎ তিন কোম্পানীর লঞ্চ আসা যাওয়া বন্ধ। অদৃশ্য কারণে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বেতুয়াঘাটে লঞ্চ আসা যাওয়ায় গোপন সিদ্ধান্তে যাত্রী দূর্ভোগ চরমে। কর্তৃপক্ষ যদিও মেঘনায় আবহাওয়ার সিগনাল অজুহাতে সাপ্তাহ পার করলেও জানা গেছে এর নেপথ্যে অন্য ঘটনা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্টাফ জানান, বেতুয়াঘাটে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে কিছু লোকযাত্রীদের ১০টাকা ঘাট টিকেট ও মালামালের অতিরিক্ত দাম নিয়ে বাক বিতন্ডার কারনে সাধারন মানুষ তাদের কাছে জিম্মি। সম্প্রতি বেতুয়াঘাটে প্রতি লঞ্চে কেবিন বরাদ্দ নিয়ে আসলামপুর ইউপি আ’লীগের সভাপতি নুরে আলম মাস্টারের ভাগিনা ফয়সাল একটি লঞ্চের আওলাদে রশি কেটে দেয়। সুবিচার না পেয়ে আমরা বেতুয়া ঘাটে লঞ্চ আসা-যাওয়া বন্ধ করি।
গত রবিবার থেকে লঞ্চ ঘাটে ফিরছেনা কোন লঞ্চ। শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে আসা তাসরিফ ও ফারহানের অসংখ্য যাত্রীকে ভোররাতে বোরহানুদ্দিনের হাকিমউদ্দিন ও দৌলতখান ঘাটে জোড়পূর্বক নামিয়ে দেয়া হয়। ঢাকা থেকে অনেক মালামাল নিয়ে বিপাকে পরেছেন। এমভি তাসরিফ, এমভি ফারহান ও এমভি কর্ণফুলীর ছয়টি লঞ্চ ঢাকা-টু চরফ্যাশন (বেতুয়া) চলাচল করছে ১০ বছর যাবৎ। যাত্রীদের অনুযোগ বিভিন্ন সময়ে কারণে অকারনে ঘাট ইহারাদার ও সুবিধাভোগী ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নামধারী কিছু মস্তানদের অনৈতিক কাজের খেসারত লঞ্চের যাত্রীরা কেন দিবে। বেতুয়ায় লঞ্চ আসা যাওয়া বন্ধ হওয়ায় যাত্রী সাধারনদের মধ্যে প্রচ- ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভূক্তভোগী যাত্রীরা সেবা নিশ্চিত করতে উভয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ফয়সালা করার দাবি জানান।
নৌযান পরিচালনায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ বলেন, বিরুপ আবহাওয়ার কারণে মেঘনা পাড়ি দিয়ে লঞ্চ ঢাকা-বেতুয়া যাওয়া আসা বিপজ্জনক। ত্রি-কারনে বেতুয়া আসছেনা লঞ্চ। ঢাকা থেকে এমভি তাসরিফে আজ ভোররাতে যাত্রীদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে নামিয়ে দেয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমি নিজেই। ভোরে মেঘনা নদী দেখা গেল স্বাভাবিক গতিতে, নেই কোন উত্তাল স্রোত। অথচ মধ্যরাতে চাদপুর পাড়ি দিতে হয়েছে উত্তাল স্রোতের মধ্যে।
ভোলা জেলা নাগরিক ফোরামের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ইয়াহ হিয়া ইসলাম মনির বলেন, লঞ্চ ও বেতুয়াঘাট কর্তৃপক্ষ দু’একদিনের ফয়সালার মাধ্যমে সমাধান না করলে যাত্রীদের নিয়ে কঠিন আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
