বিদ্যুৎ ভোগান্তীতে ভোলাবাসী

ভোলার বিদ্যুৎ যেন আলোর নীচে অন্ধকার

ভোলার বিদ্যুৎ যেন আলোর নিচে অন্ধকার। ভোলার গ্যাসে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দেশ চলে। অথচ ভোলায় বিদ্যুতের সমস্যার কোন অন্ত নেই। এ যেন আলোর নিচে অন্ধকার। ভোলা জেলার অবিভাবক ভোলার সকল উন্নয়নে যার অবদান সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী আলহাজ্ব তোফায়েল আহমেদ এমপির সার্বিক সহযোগীতায় ভোলার প্রাপ্ত গ্যাস ব্যাবহার করে সরকারীভাবে ২২৫ মেগাওয়াট, বেসরকারীভাবে ১০০ মেগাওয়াট, ও আরেকটি বেসরকারী কোম্পানীর মাধ্যমে ৩৫ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে ভোলা মোট ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। অথচ ভোলায় বিদ্যুতের ভোগান্তিতে রয়েছে ২২ লাখ মানুষ। ভোলার বিদ্যুৎ ইতিমধ্যে জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত হয়ে ৩২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অথচ ভোলা জেলার ২২ লাখ মানুষ সঠিকভাবে বিদ্যুৎ পায় না। যা খুবই দুঃখজনক।
ভোলা জেলার মানুষের বিদ্যুতের ভোগান্তি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন করেছেন সে আবেদনের সুত্রে জানা যায়, ভোলা রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট থেকে উৎপাদিত ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভোলা সদর দৌলতখান এবং জাতীয় গ্রিড থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বোরহানউদ্দিন, লালমোহন,তজুমুদ্দিন ও চরফ্যাশন উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। ভোলার ৩৫ মেগাওয়াট প্লান্টটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে প্রায়ই বন্ধ থাকে এতে ভোলায় অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ পায় না । তাই ভোলা জেলার উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভোলা কে জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবী ভোলাবাসীর।
তাছাড়া ভোলা-টু-চরফ্যাশন লাইনটি পুরাতন ৩৩ কোভিড লাইন। তাই ভোলায় নতুন লাইন, ভোলায় নতুন সাব স্টেশন তৈরী ও ভোলা জেলার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করে সরবরাহ করা হলে ভোলার ২২ লাখ মানুষ বিদ্যুৎতের ভোগান্তী থেকে রক্ষা ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে। এছাড়া ভোলায় আরইবি ও ওজোপাডিকা যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে তাদের লাইন,সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার অনেক পুরোনো, একেবারেই নাজুক। ঠিকমত লোড নিতে পারে না। যার কারনে লোভোল্টেজের কারনে গৃহস্থালি টিবি, ফ্রিজ নস্ট হয়ে যায়, ঠিক মত ফ্যান চলে না, বাতি জ্বলে নিভো নিভো করে। সামান্য ঝড় বাতাস হলেই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ বিভাগ এসব অভিযোগ করলে তারা বলেন, পিজিসিবি ও পিডিবি থেকে থেকে সঠিক ভাবে বিদ্যুৎ পায় না। কিন্তু গরমের সময় বিদ্যুৎএর চাহিদা বেশী থাকলেও শীতকালে তো এসমস্যা থাকার কথা না কিন্তু দেখা যাচ্ছে শীত কালেও বিদ্যুৎ ঠিকমত পাওয়া যায় না।
তবে বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, এর মূল কারন হল সরকারের শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষনা কারনে ভোলার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানীগুলো প্রতি ঘড়ে ঘড়ে লাইন টেনে দিয়েছে তাদের দুর্বল পুরানো ট্রান্সফরমার, তার, ট্রান্সফরমানের লোড নেয়ার মত ক্যাপাসিটি নেই। যার কারনে একটু ঝড় বাতাস হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়।
এদিকে ভোলায় বিদ্যুৎ গ্রাহকরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারনে অতিস্ট গয়ে পরেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি অনেক অভিযোগ। তারা বিদ্যুৎ সঠিক ভাবে না পেলেও তাদের প্রতি মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল করা হয়, মাসিক সার্ভিজ চার্জ, মাসিক মিটার ভাড়া, ভৌতিক বিল নেয়া, ট্রান্সমিটার নস্ট হয়ে গেলে গ্রাহকরা টাকা দিয়ে আনা, গ্রাহকদের মিটার না দেখে বিল করা, বিভিন্ন অযুহাতে লাইন কেটে দিয়ে লাইন দেয়ার নামে গ্রাহকদের হয়রানি করা সহ বিভিন্নভাবে গ্রাহকরা হয়রানী হচ্ছে। এসব হয়রানী থেকে রক্ষা পাওয়া।
এ ব্যাপারে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ জিএম মোঃ আবুল বাসার আজাদ বলেন, ভোলা আসলে বিদ্যুতের সমস্যার কারন হল জাতীয় গ্রীড থেকে যে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়া সেখানে ট্রান্সমিটার লোড নিতে পারে না সেখান থেকে ৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায় এবং সেখানে ট্রান্সমিটার ফল্ট করে। তবে বোরহাউদ্দিন এ ১২০ এভিএম বিদ্যুৎ ট্রান্সমিটারের কাজ চলছে সেটা হলে এ সমস্যা থাকবে না। আমাদের দুটি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে আরো দুটি লাইনের কাজ চলছে। এসব লাইনের কাজ সম্পন্ন হলে গ্রাহকরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে।
ভোলাবাসীর বিদ্যুতের সমস্যার নিয়ে গত ১৩ তারিখ বিকাল ৩টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে জুম কনফারেন্সিং বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন ভোলার কৃতি সন্তান সাবেক খাদ্য সচিব (পিআরএল) এবং জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাস্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সরকারের সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত সচিব ও পিডিবি মেম্বার (এডমিন) মো. জহুরুল হক, ভোলার দুজন বিশিষ্ট রাজনীতিক ফজলুল কাদের মজনু, সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগ ও মো. মাহাবুবুর রহমান হিরন, সরকারের সিআইপি ও বিবিএস ক্যাবলস এর এমডি ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার, মন্ত্রণালয় তথা সরকারের পক্ষে যুক্ত হন জনাব মোঃ বেলায়েত হোসেন, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, গোলাম কিবরিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি), মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অবঃ), চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং মোঃ শফিক উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড খুলনা (ওজোপাডিকো), বিডিএফআইর আন্তর্জাতিক সমন্বয়ক জহিরুল আলম, সভাপতি লায়ন আবুল কাশেম এমজেএফ, সাধারন সম্পাদক এম এ মজিদ প্রমুখ। সভায় ভোলায় বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে কয়েকটি সুপারিশ পেশ করা হয়।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত সচিব ও পিডিবি মেম্বার (এডমিন) মো. জহুরুল হক বলেন, ভোলায় বিদ্যুৎতের অনেক সমস্যা রয়েছে। ভোলায় দুটি ইকোনমিক জোন হবে। সেক্ষেত্রে ভোলায় বিদ্যুতের প্রয়োজন অনেক। সেক্ষেত্রে ভোলার প্রয়োজনীয় সবটুকুই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীড হতে পাওয়ার ব্যাবস্থাও করা ও বর্তমান বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানীগুলোর নিম্ম মানের লাইনগুলো স্টার্ডার্ড মানের করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে। এখানে যত বিদ্যুৎই দেয়া হউক না কেন লাইন উন্নত না হলে গ্রাহকরা কখনওই নিরবিন্নভাবে বিদ্যুৎ পাবে না। ভোলায় দুটি পাওয়ার গ্রীড উপকেন্দ্র নির্মান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে একটি চরফ্যাশনে অন্যটি ভোলায়। বোরহাউদ্দিনে ১২০ এভিএম পাওয়ার ট্রান্সফরমারের কাজ চলমান।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।