আন্তর্জাতিক সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে মনপুরায় আইসিডিডিআর,বি’র সচেতনতামূলক কর্মসূচি

আব্দুর রহমান সোয়েব,মনপুরা প্রতিনিধি।।আন্তর্জাতিক সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে ভোলার মনপুরায় সিসা দূষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১২টায় উপজেলার সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি’র উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও তরুণ সংগঠক আব্দুর রহমান সোয়েব। কর্মসূচিতে কো-লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আরাফাত ইসলাম করিম। এ ছাড়া ইমাম হোসেন রিফাত ও তানিয়া আক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় সিসা দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব, দূষণের উৎস, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সিসার সংস্পর্শ থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সিসার ক্ষতিকর প্রভাব এবং দৈনন্দিন জীবনে সিসা দূষণের সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান আলোচক আব্দুর রহমান সোয়েব বলেন, সিসা একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সিসা দূষণ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, সিসাযুক্ত ধুলা ও দূষিত পরিবেশ থেকে শিশুদের দূরে রাখা এবং সিসা দূষণের সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
কর্মসূচির কো-লিডার আরাফাত ইসলাম করিম বলেন, “সিসা দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং নিজেদের পরিবার ও সমাজের অন্যদের মধ্যেও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে।”
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সিসা দূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের পরিবার ও আশপাশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সিসা দূষণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
