ভোলায় রেইজ প্রকল্পের শিক্ষানবিশদের সঙ্গে জিজেইউএস’র মতবিনিময় সভা
লালমোহনে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

জাহিদ দুলাল, লালমোহন ॥ ভোলার লালমোহন উপজেলায় এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবে বেড়েছে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা। গত বছর ১৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হলেও এবার ২৩টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে শুক্রবার (১৬ অক্টোবার)।
শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। ভক্তের ভক্তি, নিষ্ঠা ও পূজার আনুষ্ঠানিকতায় মাতৃরূপে দেবী দুর্গা অধিষ্ঠিত হবেন মণ্ডপে মণ্ডপে। দেবী দুর্গার আগমনে উচ্ছ্বসিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। চলছে উৎসবের আমেজ। এরই মধ্যে উপজেলায় ২৩টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস ও পঞ্জিকা মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় পূজার মাধ্যমে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবীতে) আমন্ত্রণ জানানো হয়। শাস্ত্রমতে এ বছর দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটবে ঘোড়ায় (ঘোটক) এবং প্রস্থান বা গমন হবে নৌকায়।
লালমোহন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি নিরব কুমার দে বলেন, দুর্গোৎসবকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। পূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা করছেন তিনি। এছাড়া ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্গাপূজা লালমোহনে পরিণত হবে সম্প্রীতি ও মিলনমেলায়। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে অঞ্জলি, পূজা-অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
এদিকে, উৎসবের আনন্দ যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা, জেনারেটর বা বিকল্প আলোর ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি থাকবে গোয়েন্দা নজরদারিও।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি তহবিল থেকে উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতায় আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী তিনি।
উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপে ঘুরে দেখা যায়, মন্দিরে মন্দিরে এখন চলছে শেষ মূহুর্তের দেবী প্রতিমার রং তুলির কাজ। কাদামাটির প্রলেপের ওপর রংতুলির আঁচড়ে দশভুজা দেবী ষষ্ঠীর দিন পাবেন জীবন্ত রূপ। দেবী সেজে উঠবেন অপরূপ সাজে। শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মঙ্গলসংগীতে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভক্তরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী, রবিবার (১৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাঅষ্টমী,মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী ও বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পূজা। দশমীর দিনে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
