ভোলায় রেইজ প্রকল্পের শিক্ষানবিশদের সঙ্গে জিজেইউএস’র মতবিনিময় সভা
ভোলা সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও শিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন

ভোলা সরকারি কলেজে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, বিতর্কিত প্রশাসনিক অনুমতি ও অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলেজ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছে।
গতকাল সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ভোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী ছাত্রশিবির। সেখানে অভিযোগ করা হয়, তাদের পূর্বঘোষিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে ছাত্রদল।
সংবাদ সম্মেলনে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আল আমিন বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করে অনুমতি নিয়েই তারা আগামী ১৫ অক্টোবর ছায়াবীথিতে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন। কিন্তু সেই প্রচারণার পরপরই একই দিন ও একই স্থানে ফুটবল টুর্নামেন্টের কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রদল। শিবিরের দাবি, তাদের কর্মসূচি পণ্ড করতেই এই পাল্টা আয়োজন।
অন্যদিকে, শিবিরের সংবাদ সম্মেলনের পর গতকালই ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে কলেজ শাখা ছাত্রদল। সেখানে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্রদল নেতা নাহিমের স্মরণে একটি স্মৃতিচারণমূলক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য তারা আগেই কলেজ প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসন তখন ‘সুযোগ নেই’ জানিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেয় এবং ৮ অক্টোবর কলেজ নিজস্ব নবীনবরণ সম্পন্ন করে।
ছাত্রদল নেতাদের প্রশ্ন, “প্রশাসন যেখানে স্মারকমূলক খেলাধুলার অনুমতি দিল না, সেখানে ৮ তারিখের পর বন্ধের দিনে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কীভাবে অন্য একটি সংগঠনকে পুনরায় নবীনবরণের অনুমতি দেওয়া হলো?” বন্ধের দিনে এমন অনুমতি দেওয়ার পেছনে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
গতকাল উভয় পক্ষের সংবাদ সম্মেলন ও অবস্থান কর্মসূচির পর থেকেই ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
একই দিনে ও একই স্থানে দুই সংগঠনের মুখোমুখি কর্মসূচি ঘিরে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আজ ও আগামীকালের নির্ধারিত কর্মসূচি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা
