ভোলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
“বাংলা সাহিত্যের দুই অখণ্ড স্তম্ভ ” এবং অপপ্রচারের ব্যবচ্ছেদ

অহিদুজ্জামান রানা || রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রধান পরিচর্যাকারী এবং বিশ্বকবি। রবীন্দ্রনাথকে তাচ্ছিল্য বা খাটো করা মানে পুরো বাংলা সাহিত্যের দর্শনকে খাটো করা। এটি করার মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান শক্তি ও আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ সকল সাহিত্যিককেই অপমান করা হয়। সাহিত্য চর্চার সুবাদে পদমর্যাদায় আমি যদি বাংলা সাহিত্যের একজন অনুজ সদস্যও হই, তবে একে আমি আমার ব্যক্তিগত চরম অপমান বলে মনে করি।
সম্প্রতি এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্বকবিকে নিয়ে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ গর্হিত কাজ ও মন্তব্য করেছেন। হাস্যকর বিষয় হলো, যার ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞান নেই—যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সঠিকভাবে না বলে বারবার “বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়” বলছিলেন—তিনি সাহিত্য ও ইতিহাস নিয়ে ভিত্তিহীন কথা বলছেন! তাকে যদি দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবই থেকেও তিনটি প্রশ্ন করা হয়, তবে তিনি উত্তর দিতে পারবেন না। যে অপপ্রচারের ওপর ভিত্তি করে তিনি কথা বলছেন, তার স্বপক্ষে কোনো ঐতিহাসিক দলিল কি তাঁর কাছে আছে?
ঐতিহাসিক সত্য ও অপপ্রচারের পটভূমি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বিরোধিতা করেছিলেন—এই দাবিটি একটি বহুল প্রচলিত মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা। এর সপক্ষে কোনো যুক্তিসঙ্গত বা ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ কখনোই মেলেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো অনিহা বা বিরোধিতার কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা পাওয়া যায়নি; এটি একটি ভিত্তিহীন ধারণা বা অপপ্রচার।ইতিহাস এবং বিভিন্ন গবেষণা থেকে বিষয়টির সত্যতা জানা যায়:
• ভিত্তিহীন অভিযোগ: মেজর জেনারেল এম. এ. মতিনসহ কারও কারও মতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন, তবে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং অন্যান্য ইতিহাসবিদদের দীর্ঘ গবেষণায় এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বাস্তব বিরোধিতাকারী: ১৯১১-১৯১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সময় মূলত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং রাজনীতিক সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি গোষ্ঠী বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাদের দলে ছিলেন না।
ঢাকায় সংবর্ধনা ও সম্মাননা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরবর্তীতে একাধিকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), কার্জন হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেছিলেন।
ডি.লিট উপাধি: ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার’ (ডি.লিট) ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৯৩৮ সালে তাঁকে এই উপাধি প্রদান করা হয়।
মূলত বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীকালে অনেকের মনে এমন একটি ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল যে তিনি বুঝি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও বিরোধী ছিলেন। ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণ করে যে তাঁর কোনো অনিহা ছিল না।
পাকিস্তান আমলে যখন এই সত্যকে বিকৃত করে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তখন তৎকালীন প্রগতিশীল সাহিত্যিকেরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
পূর্ব পাকিস্তানে জোরপূর্বক আল্লামা ইকবালকে চাপিয়ে দেওয়া এবং উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই প্রথম ‘রবীন্দ্রনাথ এলার্জি’র বিস্তার ঘটানো হয়। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী চেয়েছিল কায়কোবাদ, ফররুখ আহমদের মতো কবিদের এককভাবে ধর্মীয় পরিচয়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে পাঠ্যবই দখল করতে। অন্যদিকে, সৈয়দ মুজতবা আলী, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর, কবি জসিমউদদীন, মতো প্রগতিশীল সাহিত্যিকরা এই সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।
তাদের সারথী ছিলেন তৎকালীন তেজস্বী ও টগবগে তরুণ কাজী নজরুল ইসলাম এবং শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। নজরুল সবসময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘গুরুদেব’ বলে পরম শ্রদ্ধা ও ভক্তি করতেন। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মধ্যকার এই অটুট শ্রদ্ধা ও সাহিত্যিক মেলবন্ধন তৎকালীন সকল প্রকার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছিল।
নজরুলকে নিয়ে রাজনীতি ও আধুনিক ষড়যন্ত্র
যখন প্রতিক্রিয়াশীলরা সরাসরি ইকবালকে রবীন্দ্র-বলয়ের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করাতে পারল না, তখন নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর শুরু হলো নতুন ষড়যন্ত্র। যে গোষ্ঠী একসময় নজরুলকে ‘নাস্তিক কবি’ বা ‘খ্যাপা কবি’ বলে তিরস্কার করত, তারাই হঠাৎ নজরুলকে রবীন্দ্র-বিরোধী বানিয়ে এবং কবি অপেক্ষা কেবল ধর্মীয় পরিচয়ে উপস্থাপন করার চেষ্টা শুরু করল।
তারা নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে রাজনীতির নোংরা তর্কের উপাদান বানিয়েছে। অথচ জীবদ্দশায় এই দুই মহান কবি কখনো একে অপরের বিরোধিতা করেননি; বরং তাঁদের সম্পর্ক ছিল স্নেহ ও শ্রদ্ধার। আজ কিছু অশিক্ষিত ও অজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের সম্মান ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
উপসংহার
যেদিন পর্যন্ত বাংলা সাহিত্য থাকবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম পাশাপাশি বিশ্বদরবারে সমাদৃত হবেন। শোরগোল বা চিৎকার করে হয়তো বিতর্ক তৈরি করা যায়, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে বাদ দিয়ে কোনো সাহিত্যচর্চা বা সৃজনশীল কাজ কখনো সম্ভব নয়। সত্যকে জানুন, কারণ জানার কোনো বিকল্প নেই।
============================
অহিদুজ্জামান রানা
============================
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রধান পরিচর্যাকারী এবং বিশ্বকবি। রবীন্দ্রনাথকে তাচ্ছিল্য বা খাটো করা মানে পুরো বাংলা সাহিত্যের দর্শনকে খাটো করা। এটি করার মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান শক্তি ও আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ সকল সাহিত্যিককেই অপমান করা হয়। সাহিত্য চর্চার সুবাদে পদমর্যাদায় আমি যদি বাংলা সাহিত্যের একজন অনুজ সদস্যও হই, তবে একে আমি আমার ব্যক্তিগত চরম অপমান বলে মনে করি।
সম্প্রতি এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্বকবিকে নিয়ে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ গর্হিত কাজ ও মন্তব্য করেছেন। হাস্যকর বিষয় হলো, যার ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞান নেই—যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সঠিকভাবে না বলে বারবার “বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়” বলছিলেন—তিনি সাহিত্য ও ইতিহাস নিয়ে ভিত্তিহীন কথা বলছেন! তাকে যদি দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবই থেকেও তিনটি প্রশ্ন করা হয়, তবে তিনি উত্তর দিতে পারবেন না। যে অপপ্রচারের ওপর ভিত্তি করে তিনি কথা বলছেন, তার স্বপক্ষে কোনো ঐতিহাসিক দলিল কি তাঁর কাছে আছে?
ঐতিহাসিক সত্য ও অপপ্রচারের পটভূমি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বিরোধিতা করেছিলেন—এই দাবিটি একটি বহুল প্রচলিত মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা। এর সপক্ষে কোনো যুক্তিসঙ্গত বা ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ কখনোই মেলেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো অনিহা বা বিরোধিতার কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা পাওয়া যায়নি; এটি একটি ভিত্তিহীন ধারণা বা অপপ্রচার।ইতিহাস এবং বিভিন্ন গবেষণা থেকে বিষয়টির সত্যতা জানা যায়:
• ভিত্তিহীন অভিযোগ: মেজর জেনারেল এম. এ. মতিনসহ কারও কারও মতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন, তবে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং অন্যান্য ইতিহাসবিদদের দীর্ঘ গবেষণায় এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বাস্তব বিরোধিতাকারী: ১৯১১-১৯১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সময় মূলত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং রাজনীতিক সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি গোষ্ঠী বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাদের দলে ছিলেন না।
ঢাকায় সংবর্ধনা ও সম্মাননা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরবর্তীতে একাধিকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), কার্জন হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেছিলেন।
ডি.লিট উপাধি: ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার’ (ডি.লিট) ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৯৩৮ সালে তাঁকে এই উপাধি প্রদান করা হয়।
মূলত বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীকালে অনেকের মনে এমন একটি ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল যে তিনি বুঝি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও বিরোধী ছিলেন। ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণ করে যে তাঁর কোনো অনিহা ছিল না।
পাকিস্তান আমলে যখন এই সত্যকে বিকৃত করে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তখন তৎকালীন প্রগতিশীল সাহিত্যিকেরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
পূর্ব পাকিস্তানে জোরপূর্বক আল্লামা ইকবালকে চাপিয়ে দেওয়া এবং উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই প্রথম ‘রবীন্দ্রনাথ এলার্জি’র বিস্তার ঘটানো হয়। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী চেয়েছিল কায়কোবাদ, ফররুখ আহমদের মতো কবিদের এককভাবে ধর্মীয় পরিচয়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে পাঠ্যবই দখল করতে। অন্যদিকে, সৈয়দ মুজতবা আলী, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর, কবি জসিমউদদীন, মতো প্রগতিশীল সাহিত্যিকরা এই সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।
তাদের সারথী ছিলেন তৎকালীন তেজস্বী ও টগবগে তরুণ কাজী নজরুল ইসলাম এবং শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। নজরুল সবসময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘গুরুদেব’ বলে পরম শ্রদ্ধা ও ভক্তি করতেন। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মধ্যকার এই অটুট শ্রদ্ধা ও সাহিত্যিক মেলবন্ধন তৎকালীন সকল প্রকার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছিল।
নজরুলকে নিয়ে রাজনীতি ও আধুনিক ষড়যন্ত্র
যখন প্রতিক্রিয়াশীলরা সরাসরি ইকবালকে রবীন্দ্র-বলয়ের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করাতে পারল না, তখন নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর শুরু হলো নতুন ষড়যন্ত্র। যে গোষ্ঠী একসময় নজরুলকে ‘নাস্তিক কবি’ বা ‘খ্যাপা কবি’ বলে তিরস্কার করত, তারাই হঠাৎ নজরুলকে রবীন্দ্র-বিরোধী বানিয়ে এবং কবি অপেক্ষা কেবল ধর্মীয় পরিচয়ে উপস্থাপন করার চেষ্টা শুরু করল।
তারা নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে রাজনীতির নোংরা তর্কের উপাদান বানিয়েছে। অথচ জীবদ্দশায় এই দুই মহান কবি কখনো একে অপরের বিরোধিতা করেননি; বরং তাঁদের সম্পর্ক ছিল স্নেহ ও শ্রদ্ধার। আজ কিছু অশিক্ষিত ও অজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের সম্মান ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
উপসংহার
যেদিন পর্যন্ত বাংলা সাহিত্য থাকবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম পাশাপাশি বিশ্বদরবারে সমাদৃত হবেন। শোরগোল বা চিৎকার করে হয়তো বিতর্ক তৈরি করা যায়, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে বাদ দিয়ে কোনো সাহিত্যচর্চা বা সৃজনশীল কাজ কখনো সম্ভব নয়। সত্যকে জানুন, কারণ জানার কোনো বিকল্প নেই।
