ভোলার মেঘনা নদী থেকে ইজারা বহির্ভূত ৮৯ লক্ষ ঘনফুটের বেশি বালু উত্তোলন করা যাবে না : চেম্বার আদালত

ভোলার নদীভাঙন রোধ ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ইজারার শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত ৮৯ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু উত্তোলন করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভোলার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার জজ আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
আদেশের পর রিটকারী আইনজীবী মহিবুল্লা খোকন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, দরপত্র অনুযায়ী বছরে ৮৯ লাখ ঘনফুট বালু তোলার কথা থাকলেও প্রতিদিন ড্রেজার দিয়ে দেড় কোটি ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। তার দাবি, আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ না করেই চুক্তিপত্রে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ হয়েছে বলে উল্লেখ করে ইজারা দিয়েছেন, যা বেআইনি ও অসাংবিধানিক।
ভোলায় ২৫০ থেকে ৩০০ ড্রেজার ও ৮০০ বাল্কহেড দিয়ে ব্যাপকভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিটকারী। এর পরিপ্রেক্ষিতে বালু উত্তোলন বন্ধ চেয়ে ভোলার বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহিবুল্লা খোকন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তাঁর সঙ্গে শুনানিতে ছিলেন মো. মিজানুর রহমান।
ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ভোলায় বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন ভোলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জামিলসহ দুজন। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার ইজারার শর্তের বাইরে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞার এ আদেশ দেন চেম্বার আদালত।
দিনে উঠছে দেড় কোটি ঘনফুট :
আদেশের পর রিটকারী আইনজীবী মহিবুল্লা খোকন সাংবাদিকদের বলেন, সরকার নদীভাঙন রোধে ব্লক বাঁধ নির্মাণের জন্য ভোলায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। অথচ বালুমহাল থেকে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে মাত্র ৪ কোটি টাকা। মাত্র ৪ কোটি টাকার জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আদালত ও দরপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরে ৮৯ লাখ ঘনফুট বালু তোলার কথা। কিন্তু দৈনিক বণিক বার্তার প্রতিবেদন ও ড্রেজার মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন দেড় কোটি ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা ৫০ কোটি ঘনফুট বালু তুলে ফেলেছে। তাই শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত ৮৯ লাখ ঘনফুটের সীমা অনেক আগেই পার হয়ে গেছে।
ভোলার গ্যাসক্ষেত্রগুলোর কথা উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, ভোলায় ৯ থেকে ১০টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। সারা দেশ যখন গ্যাসসংকটে ভুগছে, তখন ভোলার মাটি ও গ্যাসক্ষেত্র রক্ষায় বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। নিচ থেকে বালু তুলে নিলে ব্লক দিয়ে নদীভাঙন রোধ করা যাবে না।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ :
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিটকারী আইনজীবী অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যিনি আবেদন করেছেন, সেই জামিল ভোলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী এই বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আইনজীবী মহিবুল্লা খোকনের ভাষ্য, ২০০ জনের স্বার্থের জন্য ভোলার ২২ লাখ মানুষ নির্যাতনের শিকার হতে পারে না, তারা ভিটামাটি হারাতে পারে না।
ভোলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন আইনজীবী ও ভোলার বাসিন্দা হিসেবে তাঁর যতটুকু দায়িত্ব ছিল, তিনি পালন করেছেন। এখন জেলা প্রশাসককে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং আর এক মুহূর্তের জন্যও বালু তুলতে দেওয়া যাবে না।
