ভোলা বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, ১৮ বছর ধরে এক্স-রে মেশিন বিকল

নাসির উদ্দিন লিটন ॥
ভোলা জেলার একমাত্র বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতালের এক্স-রে যন্ত্রটি ১৮ বছর ধরে বিকল। তাই রোগীদের যেতে হয় পাশের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসাপাতালে। কিন্তু সেখানেও গত দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ এক্স-রে পরীক্ষা। এদিকে সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে বন্ধ থাকায় বাড়তি টাকা দিয়ে বাইরের বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র ও ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে রোগীদের। এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকা ও গাফলতির কারণে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। তবে সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসকরা জানান,যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসে ক্যান্সার, বুকে পানি জমা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় রোগীদের প্রাথমিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে। কিন্তু ভোলা জেলার একমাত্র বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি গত ১৮ বছর বিকল। ফলে অত্যন্ত সংবেদনশীল এ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে তিনি একই কম্পাউন্ডের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক্স-রে করাতেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে ফিল্মের অভাবে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এক্স-রে বন্ধ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বক্ষব্যাধি ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। এর মধ্যে এক্স-রে প্রয়োজন হয় ৫০ থেকে ৬০ জনের। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে ভোলা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসাপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন ভোলার দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর এলাকার বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী মো. হিরন। দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকায় চিকিৎসা নিতে এসেছেন তিনি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে এক্স-রেসহ কয়েকটি পরীক্ষা দেন। কিন্তু বক্ষব্যাধি হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি বিকল থাকায় তাকে পাঠানো হয় ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসাপাতালে।
সেখানে গিয়ে দেখতে পান এক্স-রে কক্ষে তালা দেওয়া। দরজায় একটি নোটিশ লাগানো রয়েছে। তাতে লেখা- ‘ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ’। তাই বাধ্য হয়ে তিনি বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে এক্স-রে করিয়েছেন।
একই দিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সদর উপজেলা ব্যাংকের হাট বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফারুক চিকিৎসার জন্য আসেন ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে এক্সে-রে করার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষের সামনে গিয়ে সেটি বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষের সামনে এমন নোটিশ ঝুললেও সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে জানান বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঝে মধ্যেই কয়েকদিন পর পর হাসপাতালটিতে ফিল্মের অভাবে এক্স-রে বন্ধ থাকে। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, ভোলা জেলার ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার ভরসা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। তবে এত বড় একটি হাসপাতালে এক্স-রে যন্ত্রটি বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। হাসপাতালে এসেও জটিল রোগী নিয়ে বাইরে যেতে হয় এক্স-রে করাতে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। শুধু ফিল্মের অভাবে জেলার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রের এমন দুরাবস্থায় ক্ষুব্ধ তারা।
ভোলা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. অমিত চ্যাটার্জি বলেন, বক্ষব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মধ্যে হলো এক্স-রে। কিন্তু এখানকার এক্স-রে যন্ত্র ২০০৮ সাল থেকেই নষ্ট। নতুন স্থাপন করার পর শুরুর দিকে দুই-একটি ফিল্ম বের হলেও পরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। এরপর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পর দুই দফায় তাদের প্রতিনিধি দল এসে দেখে গেছে। কিন্তু তারাও এটি সচল করতে পারেননি। বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তারা এখনো ভালো কোনো সমাধান দিতে পারেননি।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, এক্স-রে যন্ত্রটি সচল থাকলেও ফিল্মের স্বল্পতার কারণে মাঝে মাঝে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় এবং এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ রাখকে হয়। আশা করি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এক্স-রে কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা যাবে।
