শিক্ষক বা অন্য পেশার কারও সাংবাদিকতার সুযোগ নেই: প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান
চীনের দুঃখ হোয়াংহ নদী, ভোলা পৌরসভা ও এলজিডির দুঃখ আরশাদ আলী সড়ক

বীথি ইসলাম ॥ ভোলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোর একটি চরনোয়াবাদ এলাকার আরশাদ আলী সড়ক। সার্কিট হাউজের বিপরীতে অবস্থিত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি একদিকে ভোলা বাস স্ট্যান্ড-ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট বাইপাস সড়কের সঙ্গে যুক্ত। অথচ গত প্রায় ১৭ বছর ধরে কোনো বড় ধরনের সংস্কার ছাড়াই পড়ে থাকায় বর্তমানে সড়কটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও কোথাও ইট ও খোয়া বেরিয়ে পড়েছে, যা যানবাহন চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন এই সড়ক দিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব; অনেক সময় পায়ে হেঁটেও চলতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বর্ষা মৌসূমে তো পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সড়কটির বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো: ইয়াসিন বলেন, এই রাস্তায় কোনো অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে পারে না। কেউ অসুস্থ হলে তাকে কোলে করে মূল সড়কে নিতে হয়। আমাদের রাস্তা করে দিন, না হয় আমাদের মেরে ফেলুন।
স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা বেগম বলেন, এই রাস্তায় কোনো গাড়ি বা রিকশা আসতে চায় না। শহর থেকে ভারী মালামাল আনা যায় না। রাস্তাটার কারণে আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আল-আমিন জানান, কয়েক দিন আগে তার ভাতিজা অটোরিকশা দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছে। রুমা বেগম বলেন, এই রাস্তায় কোনো স্কুলের গাড়ি ঢুকতে চায় না। ফলে বাচ্চাদের ভালো স্কুলে পড়ানো কঠিন হয়ে গেছে। রাস্তা খারাপ থাকায় বছরে চার-পাঁচ জোড়া শুধু জুতাই কিনতে হয়। স্থানীয় যুবক আলি আকবর শান্ত বলেন, আমার জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত এই সড়কে কখনো কোনো সংস্কারকাজ হতে দেখিনি।

আরো জানা যায়, সড়কটির একটি অংশ ভোলা পৌরসভার আওতায় এবং অপর অংশ বাপ্তা ইউনিয়ন পরিষদের অধিভুক্ত। এই প্রশাসনিক বিভাজনের কারণে দায়িত্ব নির্ধারণে দীর্ঘদিন ধরেই অস্পষ্টতা রয়ে গেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। স্থানীয়দের দাবি, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের টানাপোড়েনের কারণেই সড়কটি কখনোই উন্নয়নের অগ্রাধিকার পায়নি।
এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে ৩টি মসজিদ, ২টি মাদ্রাসা, ১ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের অফিসসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রতিদিন আনুমানিক ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লি ও সাধারণ পথচারী এই সড়ক ব্যবহার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: কামাল হাসান অভিযোগ করে বলেন, এলাকার বড় একটি অংশ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় গত দেড় দশকে এই সড়কের উন্নয়ন ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষিত থেকেছে। মো: সাইফুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একসময় কাজ বন্ধ থাকার পর বহুবার বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন ও অভিযোগ দিয়েছি। এমনকি বর্তমান সরকারের সময়েও বারবার জানানো হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক মো: মিজানুর রহমান ভোলার বাণী-কে বলেন, শুধু এই সড়কটি নয়, আমাদের কাছে যেসব সড়কের বিষয়ে তথ্য রয়েছে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা দেয়া হয়েছে আশা করি নির্বাচনের পরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে সেগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে।

সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া কেবল স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ঘাটতির প্রতিফলন। দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে দায়িত্ব স্পষ্ট না করা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।
