করোনা মহামারী সংকটে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য কৃষকদেরকে বিশেষ প্রনোদনা প্রদান করা প্রসঙ্গে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা করোনা দুর্যোগ ও স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বেতার ভাসনে রপ্তানিমুখি শিল্পখাতে প্রনোদনা প্রদান এর ঘোষনা প্রসঙ্গে। এই বিষয়টি অব্যশ্যই জননেত্রী শেখ হাসিনার সুচিন্তিত মতামত এর ঘোষনা বলা যায়, এর সাথে যদি মাননীয় নেত্রী কৃষি সেক্টরে, কৃষকদের জন্য প্রনোদনা ঘোষনা দিতেন সেটা আরো সুদূর প্রশারী হতো। বিশেষ উল্লেখ্য যে, প্রতি শতাব্দি অন্তর সারা বিশ্বজুড়ে মানব সভ্যতার উপর রোগ ব্যাধি মহামারী হিসাবে আর্ভিভূত হয়, যাতে করে সমগ্র মানব সভ্যতাও বিশ্বজনপদ হুমকির মুখে পরে। উক্ত সংকট থেকে প্রতিটি দেশ সংকট কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। সেই ক্ষেত্রে আপদকালীন সংকট কাটয়ে উঠার জন্য প্রতিটি রাষ্ট্রকে কিছু জরুরী পদেক্ষপ গ্রহন করতে হয়। আমাদের দেশে এখনো অধিকাংশ মানুষ কৃষি নির্ভর অর্থনীতির সাথে জড়িত। আমাদের কৃষি হলো অর্থনীতির লাইফ লাইন। বিশেষ করে ভোগ্য পন্যের জোগান দাতা হিসাবে কৃষকরাই হলো প্রাণশক্তি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপি মহামারী হিসাবে যে করোনা সংকট দেখা দিয়েছে তা আমাদের দেশকেই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত করছেনা, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্প উন্নত দেশে যেমন শিল্প পন্য উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদী লক ডাউনে যেতে হলে, আমাদের দেশের রপ্তানি বাণিজ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার সাথে সাথে জরুরী প্রয়োজনে পন্য সামগ্রি আমদানীর ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হবে আমাদের দেশ। সেই ক্ষেত্রে তাৎক্ষনিক খেয়ে পরে বাঁচার জন্য মাঠ পর্যায় কৃষকদেরকে প্রনোদনার মাধ্যমে সচল রেখে, কৃষি পন্য উৎপাদন বর্তমান এর চেয়ে দ্বীগুন করা ছাড়া দ্বীতিয় কোন বিকল্প নাই বলা চলে। আমাদের কৃষি যেমন খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে। তেমনি কাংখিত কৃষি উৎপাদনের উপর দেশের মোট কাজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বহুলাংশে নির্ভর করে। কেননা বাংলাদেশের জনসংখ্যার তিন চতুথাংশের বেশি মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং কৃষিই তাদের জীবন জীবিকা। বর্তমান করনা ভাইরাস মোকাবেলায় যদি দীর্ঘ মেয়াদে লকডাউনে থাকতে হয়, সে ক্ষেত্রে গ্রামে বসবাসকারী দেশের সিংহভাগ মানুষের খাওয়া পরার যোগান ঠিক রাখা ছাড়া দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার ২০১৩ সালের মধ্যে পূর্ব ঘোষিত খাদ্য স্বয়ং সম্পূর্নতা অর্জন এর ঘোষনাকে সম্ভব করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্নতার লক্ষ পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। আজ এ কথা অনস্বিকার্য্য যে, কৃষির মতো একটি ব্যাপক উৎপাদনশীল খাত সাফল্য অর্জন এর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা সরকারের বিভিন্ন মুখি প্রনোদনা জড়িত। করোনা মহামারী দীর্ঘায়িত হলে বিদেশের কৃষিখাত ও শিল্পখাত যেমন বাধাগ্রস্থ হবে, তেমনি করে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য এর প্রধান খাতগুলিও বন্ধ হয়ে যাবে।
এই সব বিবেচনায় আমাদের খেয়ে পরে বাঁচার জন্য একমাত্র অবলম্বন কৃষিখাতকেই বেছে নিতে হবে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে এর জন্য কৃষকদের কে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত শিল্প এর পাশাপাশি কৃষিখাতকেও সচল রাখার জন্য বর্তমান উৎপাদনের চেয়ে দ্বিগুন হারে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত ২৫০০০ হাজার কোটি টাকা প্রনোদনা ঘোষনা করতে হবে। প্রয়োজনে অর্থ সংকুলান এর জন্য অন্যখাত কাটেল করেও হলেও করতে হবে। এরজন্য কৃষি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচীর মূল দিকগুলো গ্রহনের পাশাপাশি সকল ব্যাংকের কার্যক্রম অংশ গ্রহনের মাধ্যমে কৃষি ঋনের পরিমান ও আওতাবৃদ্ধি আর্থিক অন্তরভূক্তিকরণ, পল্লি এলাকায় ব্যাংকিং কমংকান্ডের সম্প্রসারন করা, আমদানি বিকল্প ফসল চাষে বাড়তি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান এবং প্রযুক্তি সহজ লভ্যকরণ ও প্রসার। কৃষি ক্ষেত্রে নিরবিচ্ছিন্ন সফলতার জন্য আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শস্যের বহুমুখিকরণ, কৃষিতে জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করন ও গবেষনা জোড়দার করা, কৃষি বিপনন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি সম্প্রসারণ এর জন্য কৃষিখাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের আমদানি বিকল্প ফসল যেমন (ডাল, তেলবিজ, মসল্লা জাতীয় ফসল এবং ভূট্টা চাষের জন্য সুধবিহীন ঋণ বিতরণ এর ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি ঋণনীতিমালা অনুযায়ী কৃষিঋনের প্রদান ৩টি খাত যেমন-শস্য, মৎস্য ও পশু সম্পদ খাতে অন্যান্য ঋনের চেয়ে এই খাতে সহজলভ্য স্বল্প সুধে ঋণ প্রদান এর অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর এবং উপেক্ষিত এলাকা যেমন, উপকূলীয় এলাকা, হাওর এলাকায় সহজলভ্য কৃষি ঋণ ও প্রনোদনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রদান করতে হবে। রপ্তানি মুখি গার্মেন্টস সেক্টরের কর্মীরা বেকার হয়ে গেলে তারা গ্রামে ফিরে আসলে উক্ত নারী কর্মীদের জন্য সরকারী প্রনোদনার আওতায় কৃষি ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ প্রদান এর ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন এর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় কৃষিকে রক্ষা করার জন্য সম্ভাব্য সকল সকল প্রটেকশনের ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের দেশে করোনা মহামারী আকারে ব্যাপ্তি লাভ করলে রোগটির ভয়াবহতার কারনে জরুরী অবস্থা ঘোষনা দিতে হতে পারে এর জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য বিধিমালা জারী ও প্রতিপালনের জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার পাশাপাশি কৃষকদের কে স্বাস্থ্য সহায়তা ও কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য কৃষি কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে ছাত্র বিগ্রেড গড়ে তোলা প্রয়োজন। গ্রামে গঞ্জে সেনিটেশন কার্য্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো প্রয়োজনীয় ঔষধ সংরক্ষন ও বন্টন এর সুদৃঢ় ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

লেখক : ফজলুল কাদের মজনু
সভাপতি
ভোলা জেলা আওয়ামীলীগ।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।