আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরতে রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষিপ্রযুক্তি মেলা ‘অ্যাগ্রোটেক বাংলাদেশ-২০২৬’। আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)। মেলায় সংস্থাটির অন্যতম আকর্ষণ পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ‘জিজেইউএস গ্রিন ব্রিকস’।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। গত ২০ বছরে নতুন গ্যাসকূপ খনন না করায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে ৫২টি নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোলা, নোয়াখালী ও তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন গ্যাস প্রাপ্তিরও সুখবর পাওয়া গেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিব্যবস্থার বিকল্প নেই। কৃষকদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, কৃষি গবেষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক মর্যাদা উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এবারের মেলায় ১২টি দেশের প্রায় ২৫০টি কৃষিপ্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মোট ৫৩টি স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন উদ্ভাবন। এসব প্রযুক্তি দেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষিতে পানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে প্রায় ৪০ শতাংশ পানি সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত সার প্রয়োগ কমানো এবং জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, কৃষির বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিব্যবস্থার বিকাশ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ জরুরি। এ জন্য কৃষি গবেষণা, শিক্ষা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ কৃষিপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ, গবেষণালব্ধ জ্ঞানের মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে কৃষির টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এদিকে, মেলায় অংশ নিয়ে জিজেইউএস তাদের পরিবেশবান্ধব গ্রিন ব্রিকসের ধারণা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করছে। প্রচলিত নির্মাণসামগ্রীর বিকল্প হিসেবে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো এবং টেকসই নির্মাণব্যবস্থার প্রসারে এ উদ্যোগের লক্ষ্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরছে সংস্থাটি।
মেলায় জিজেইউএসের এগ্রো মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিটসহ সংস্থাটির অন্যান্য কার্যক্রমও বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে সংস্থাটির বিভিন্ন উদ্যোগ ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।
জিজেইউএসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কৃষি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনকে একই পরিসরে উপস্থাপনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নে সংস্থাটির ভূমিকা ও কার্যক্রম সম্পর্কে দর্শনার্থীদের ধারণা দেওয়াই এ অংশগ্রহণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ার্স অ্যান্ড এক্সিবিশনস যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এ প্রদর্শনীতে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং স্মার্ট কৃষিব্যবস্থার বিভিন্ন উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে। এবারের আয়োজনে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রিসিশন এগ্রিকালচারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ