চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ুবিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় উপকূলীয় কৃষকদের সহায়তায় তৈরি ‘CoastCrop AI’ প্রকল্পের জন্য এ স্বীকৃতি পান তিনি।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ‘Youth Potential Award’ অর্জন করেছেন ভোলার চরফ্যাশনের তরুণী সাদিয়া বিনতে মামুন। চীনের University of Nottingham Ningbo China-তে অনুষ্ঠিত ‘AI4Climate 2026 Global Youth Climate Solutions Challenge’-এ তাঁর উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘CoastCrop AI’-এর জন্য এ পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
সাদিয়া বিনতে মামুনের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়। তিনি চরফ্যাশনের তাফনাল ব্যারেট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন সাদিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি করেছেন মেশিন লার্নিংভিত্তিক প্রকল্প ‘CoastCrop AI’। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য, মাটির লবণাক্ততা ও আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের উপযোগী ফসল নির্বাচনে সহায়তা করা।
সাদিয়া জানান, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকেরা মাটির লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। বিশেষ করে নিজের জেলা ভোলাসহ উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের এসব চ্যালেঞ্জ তাঁকে প্রকল্পটি তৈরিতে অনুপ্রাণিত করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের জন্য তথ্যভিত্তিক ফসল নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য। বর্তমানে প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ের একটি প্রোটোটাইপ মডেল হিসেবে রয়েছে। ভবিষ্যতে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে এর কার্যকারিতা যাচাই এবং দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষি, মাটি ও জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করে প্রকল্পটি আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জনকে নিজের জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন সাদিয়া। তাঁর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে ‘CoastCrop AI’ বাংলাদেশের কৃষি খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিকা রাখবে এবং তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহিত করবে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ