ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা থেকে হাওলাদার মার্কেট। কাজের চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজ শেষ হতে না হতেই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়দের মনে।
অভিযোগ উঠেছে খালের পাশের অতি ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যে পরিমাণ পাইলিং বা প্রতিরক্ষা দেয়াল দেওয়ার কথা ছিল, তা করা হয়নি। ফলে কাজ চলাকালীন অবস্থাতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়তে শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের বাগারহাট বাজারে আয়োজিত হয় মানববন্ধন। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার দুই শতাধিক মানুষ এতে অংশ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রতিবাদ জানান।
অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি সড়কটির প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোড। যে সড়কের ধারণক্ষমতা মাত্র ৮ টন, সেখানে একটি প্রভাবশালী শেলটেক সিরামিক কোম্পানির ২৫ থেকে ৩৫ টনের ভারী যানবাহন অনিয়ন্ত্রিতভাবে দিন-রাত চলাচল করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা হাতে গোনা কয়েকটা ভারী গাড়ি চলাচলের কারণেই নতুন তৈরি সড়ক উদ্বোধনের আগেই চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।
এসব অভিযোগের মুখোমুখি করা হলে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম ও মান বজায় রেখেই কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ম মেনেই সড়কটি হস্তান্তর করা হবে। সড়কের পাশে খাল বা পুকুরে প্রতিরক্ষা দেয়াল শুস্ক মৌসুমে করা হবে।
মানববন্ধনের পরপরই টনক নড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের (এলজিইডি)। পরদিনই সরেজমিনে কাজ পরিদর্শনে যান উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক। তবে স্থানীয়দের অভিযোগকে ভুল ধারণা বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগটি একটি ভুল ধারণা। সরকারি নিয়ম অনুসারেই ঠিকাদার পুরনো রাস্তার মালামাল পুনর্ব্যবহার করতে পারবেন। আর বৃষ্টির কারণে পাইলিংয়ের কাজ থমকে ছিল। মানুষের দুর্ভোগের বিষয়ে আমরা অবগত, দ্রুতই সঠিক গুনগত মান বজায় রেখে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বৃষ্টির অজুহাত দিলেও এলাকাবাসীর মনে কমেনি ক্ষোভের আগুন। ২৫ কোটি টাকার এই সরকারি প্রকল্পের সঠিক নিয়মে দ্রুত সম্পন্ন করা ও সড়কে অবিলম্বে ওভারলোড গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ চান ভোলার সাধারণ মানুষ।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ