বরিশালে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নগরীর অধিকাংশ খুচরা দোকানে মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার। কোথাও বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। আবার কোথাও বাড়তি টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে না গ্যাস। শহরের অর্ধেক ফিলিং স্টেশনে নেই গ্যাস। ফলে থ্রি-হুইলার চালকরা এক ফিলিং স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গ্যাসের জন্য। সব মিলিয়ে নগরীতে এলপি গ্যাসের জন্য চলছে হাহাকার। নগরীর বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের সংকটের পাশাপাশি পরিবহণ খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও এলপিজিচালিত থ্রি-হুইলারের চালকরা। অভিযোগ উঠেছে, সরবরাহ সংকটকে পুঁজি করে কোনো কোনো দোকানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।
নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা মাহমুদা বেগম বলেন, ‘এলাকার দোকানগুলোয় গ্যাস সিলিন্ডার খুঁজে পাচ্ছি না। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। রান্না তো বন্ধ রাখা যায় না।’
নগরীর প্যারারা রোডের বাসিন্দা নুরু মিয়া বলেন, ‘কয়েকদিন আগে যা ছিল ১ হাজার ৬৫০ টাকা, মঙ্গলবার সেই সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। এরপরও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শহরতলির কোনো দোকানে একই পরিমাণ গ্যাস ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘এখন বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় চাহিদামতো সিলিন্ডার পাচ্ছি না।’
সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার মো. জুয়েল বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে সিলিন্ডারপ্রতি ৫৫ টাকা দাম বেড়েছে। প্রায় এক মাস আগে থেকেই কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছে না। ফলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী পণ্য না পাওয়ায় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
থ্রি-হুইলার চালকরা বলছেন, বরিশাল নগরীর ১০টি এলপিজি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অর্ধেকেরও বেশি স্টেশনে অধিকাংশ সময় গ্যাস থাকছে না। কিছু স্টেশনে মাঝেমধ্যে সরবরাহ পাওয়া গেলেও তা দিয়ে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এলপিজিচালিত থ্রি-হুইলারচালক আবদুর রহমান বলেন, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের নগরীর চৌমাথা এলাকার মদিনা ফিলিং স্টেশন ও গরিয়ারপাড় এলাকার মদিনা ফিলিং স্টেশন এবং রুপাতলীর ডোস্ট ফিলিং স্টেশনে সোমবার থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। একই মহাসড়কের কেডি ফিলিং স্টেশন ও কাশীপুরের সুরভী ফিলিং স্টেশনেও গ্যাস নেই।
বরিশালে প্রায় ২ হাজার ৬০০ অনুমোদিত গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যানবাহনের চালকদের বড় একটি অংশের জীবিকা নির্ভর করে প্রতিদিন পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়ার ওপর। রুপাতলীর ডোস্ট ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা শাওন বলেন, কয়েক দিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পরবর্তী কার্যদিবস থেকে এ বিষয়ে তদারকি শুরু করা হবে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ