মঞ্জুর আলম ।।
একটি কামড়, আর সেই ভুলেই নেমে আসতে পারে নিশ্চিত মৃত্যু। প্রাণঘাতী জলাতঙ্ক এখনও বাংলাদেশের অন্যতম ভয়াবহ সংক্রামক রোগ, যার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর মৃত্যুহার প্রায় শতভাগ। ভোলা শহর থেকে গ্রাম সড়ক, বাজার, আবাসিক এলাকা ও অলিগলিতে দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো পথকুকুর এখন সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। খাবারের সন্ধানে ঘুরতে গিয়ে অনেক সময় পথচারীদের ধাওয়া ও কামড়ের ঘটনাও ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, কুকুরের কামড়ের পর সবচেয়ে বড় শঙ্কা জলাতঙ্ক। এটি একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় শতভাগ। তাই কামড় বা আঁচড়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতস্থান অন্তত ১৫ মিনিট সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে টিকা নেওয়া জরুরি।
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। ‘জলাতঙ্ক দূরীকরণ, সবাই মিলে করণীয়’ প্রতিপাদ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি।
ভোলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষ কুকুর ও বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ের পর জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করেন। সদর, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ। কুকুর ছাড়াও শেয়াল, বাদুড় ও বেজিসহ কয়েকটি প্রাণীর মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে। সময়মতো টিকা নিলে এটি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এদিকে আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ভোলা জেলায় জলাতঙ্কে অন্তত চারজনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্তরা সময়মতো পূর্ণাঙ্গ টিকা গ্রহণ করেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পথকুকুর নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত টিকাদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই পারে প্রাণঘাতী জলাতঙ্ক থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখতে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ