স্টাফ রিপোর্টার ॥
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জীবন, ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম, মানবিকতা ও অনুপম চরিত্রের আলোকে জীবন গড়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভোলা শহরের খলিফাপট্টি ফেরদৌস জামে মসজিদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা পৌরসভার উদ্যোগে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় এবং পৌর আমির জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে মাহফিলে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বোরহানউদ্দিন কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও ভোলা ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাবিবুর রহমান আল জাযীরী। এছাড়া বক্তব্য দেন বোরহানউদ্দিন হাজিপুর ফাজিল মাদ্রাসার মাওলানা রফিকুল ইসলাম এবং খলিফাপট্টি ফেরদৌস জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুজির উদ্দিন।
বক্তারা মহানবী (সা.)-এর জন্ম থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত ঘটনাবহুল জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদর্শিত সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে ত্যাগ, ধৈর্য, সত্যনিষ্ঠা, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, মানবিকতা এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্যের শিক্ষা। তারা বলেন, রাসূল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগের বিষয় নয়; তাঁর আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ব্যক্তি থেকে পরিবার, সমাজ থেকে রাষ্ট্র—জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তাঁর ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতার শিক্ষা অনুসরণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে মানুষকে বের করে সত্য, ন্যায় ও আলোর পথে আহ্বান করেছেন। তিনি দুর্বল, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর জীবন ছিল মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক মহান আদর্শ। তারা আরও বলেন, রাসূল (সা.) ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করতেন এবং কখনো অহংকার বা উগ্রতাকে প্রশ্রয় দেননি। তাঁর কথা, কাজ ও আচরণে ফুটে উঠেছে উত্তম চরিত্রের পূর্ণাঙ্গ সৌন্দর্য। তাই বর্তমান সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে তাঁর জীবনাদর্শের চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা বলেন, একজন মুমিনের জীবনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা সর্বোচ্চ মর্যাদায় থাকা উচিত। তবে সেই ভালোবাসাকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা কিংবা বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা বলেন, মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ হলে তার আচরণ ও কর্মেও তার প্রতিফলন ঘটে। আল্লাহভীতি, তাকওয়া ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে অন্তরের পরিশুদ্ধতা অর্জন সম্ভব। আর নৈতিক ও পরিশুদ্ধ মানুষই একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মাহফিলে বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানার, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের এবং চরিত্র গঠনে তাঁর আদর্শকে ধারণ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সীরাতুন্নবী (সা.)-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা, সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। মাহফিলে আলেম-ওলামা, শিক্ষক, সাংবাদিক, স্থানীয় মুসল্লি, সামাজিক ও পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ