মো. রাফসান জানি, ভোলা
ভোলার দৌলতখানে শিক্ষকের মারধরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের চরগুমানী স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই শিক্ষার্থীকে ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে রেফার করা হয়।
আহত শিক্ষার্থী মোসা. আফরিন আক্তার (১৫) ওই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্রী। আহত শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সমাজবিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক মো. মেহেদী হাসান তাকে মারধর করেন। এতে আফরিন অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আফরিনের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, শিক্ষক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আহত শিক্ষার্থীর খবর পেয়ে চরগুমানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন (সেলিম) হাসপাতালে যান। তিনি আফরিনের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফকরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষক মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহের সময় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের যথাযথ সহযোগিতা করেননি এবং ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকেরা। স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার একদিকে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা, আহত শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ