ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আট ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে আগাম তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময়ের পাশাপাশি হাট-বাজার ও চায়ের আড্ডায়ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটাররা।
চরফ্যাশন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে সীমানা ও অন্যান্য আইনি জটিলতা না থাকা আট ইউনিয়নকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইউনিয়নগুলো হলো—চরমাদ্রাজ, নুরাবাদ, চরকলমি, হাজারিগঞ্জ, জাহানপুর, এওয়াজপুর, ঢালচর ও আহম্মদপুর।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এসব ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণসহ সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন ও তফসিল ঘোষণার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে আট ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীরা এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, মতবিনিময় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তারা। কোথাও কোথাও উঠান বৈঠক ও স্থানীয় পর্যায়ে মতবিনিময়ও হচ্ছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড় ও জনসমাগমস্থলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি ও শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় চায়ের দোকান ও বাজারের আড্ডায়ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান, দলীয় সমর্থন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে সাধারণ ভোটারদের কাছে নির্বাচনকে ঘিরে প্রত্যাশার জায়গাটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা, নদীভাঙনসহ স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন জনপ্রতিনিধি চান তারা। একই সঙ্গে ভোটাররা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী হচ্ছেন এবং নির্বাচন কবে হবে—এ বিষয়েই এখন তাদের মূল আগ্রহ।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণার সুযোগ নেই। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও প্রচার-প্রচারণার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এদিকে নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চরফ্যাশনের ২১ ইউনিয়নের মধ্যে আপাতত এই আট ইউনিয়ন নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও বাকি ইউনিয়নগুলোর ক্ষেত্রে সীমানা ও অন্যান্য জটিলতা নিরসনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ