স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার মেঘনা নদীর তীর ধসে নিখোঁজ হওয়া দুই বন্ধুর মধ্যে রাকিব আহমেদের (২২) মরদেহ লক্ষ্মীপুরের রামগতির একটি চর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার একটি চরে মরদেহটি পাওয়া যায়। নিখোঁজের ৩ দিন পর তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে রাকিবের স্বজনরা সেখানে পৌঁছে লাশ শনাক্ত করেন। রাকিব ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাবুল হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে নোয়াখালীর রামগতির চরে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় জেলেরা। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ রাকিবের পরিবারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর রাকিবের পরিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ শনাক্ত করেন। স্বজনরা জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাকিবের লাশ নিয়ে কিছু সময় পর ভোলার উদ্দেশে রওনা করবেন তারা।
এর আগে, গেল বুধবার সন্ধ্যায় শিবপুর ইউনিয়নের ‘গরীবের দুবাই’খ্যাত বালুর মাঠ এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে জিওব্যাগের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন পাঁচ বন্ধু। এসময় হঠাৎ নদীর তীর ধসে জিওব্যাগসহ পাঁচ বন্ধু নদীতে পড়ে যান। পরে ফাহিম (২২), আব্দুল্লাহ (২৫) ও সাগর (২৫) সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও রাকিব ও আমজাদ হোসেন (২৭) নিখোঁজ হন।
ঘটনার পর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে অভিযান চালালেও নিখোঁজ দুজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর শুক্রবার সকালে রাকিবের মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেলেও নিখোঁজ রয়েছেন আমজাদ হোসেন। রাকিবের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরেক বন্ধু আমজাদ হোসেন। তার সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
ইলিশা নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, রাকিবের পরিবার সেখানে পৌঁছে মরদেহ শনাক্ত করেছেন। লাশ বিনা ময়নাতদন্তের আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তারা। সেখানে আইনি কার্যক্রম শেষে মরদেহ নিয়ে ভোলার উদ্দেশ্য রওয়ানা করবেন।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ