ভোলায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চোখের ছানি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে ২০২ জনের চোখ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর ছানি শনাক্ত হওয়া ৪৬ জন রোগীর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। ‘কমপ্রেহেনসিভ ক্যাটারাক্ট সার্ভিসেস প্রজেক্ট’-এর আওতায় আয়োজিত কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও আন্তর্জাতিক চক্ষুস্বাস্থ্য সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনাল।
কর্মসূচির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন জিজেইউএসের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আলগীর হোসেন। ক্যাম্পের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন জিজেইউএসের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর ও উপপরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল। আয়োজকেরা জানান, কর্মসূচির মাধ্যমে চোখের ছানি আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য রেফার করা হচ্ছে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং চক্ষুচিকিৎসা থেকে দূরে থাকা মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অরবিস ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চলমান ‘কমপ্রেহেনসিভ ক্যাটারাক্ট সার্ভিসেস প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে চোখ পরীক্ষা, রোগী শনাক্তকরণ, রেফারেল এবং ছানি অস্ত্রোপচারের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে স্ক্রিনিং ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চোখের ছানি বাংলাদেশে দৃষ্টিশক্তি হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ। দারিদ্র্য, চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর দূরত্ব, যাতায়াত ব্যয় ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের অনেক মানুষ সময়মতো ছানির চিকিৎসা নিতে পারেন না। ফলে কমিউনিটি পর্যায়ে এ ধরনের পরীক্ষা ও রোগী শনাক্তকরণ কর্মসূচি তাদের চিকিৎসার আওতায় আনতে সহায়ক হতে পারে। আয়োজকদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভোলার প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ছানি চিকিৎসার সুযোগ আরও সহজলভ্য হবে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ