স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে পাতিলে রাখার সেই আলোচিত চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে নিহতের স্ত্রী নুরনাহার বেগমকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মামলার নথি ও পূর্বের ঘটনার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর ভোর রাতে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের পণ্ডিতের পোল এলাকায় এ হত্যাকান্ড ঘটে। নিহত ফরহাদ হোসেন টিটব মুন্সি (৪৫) উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের বেলায়েত হোসেন মুন্সির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগের রাতে টিটব তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী নুরনাহার বেগমের বাড়িতে যান। পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে টিটব ঘুমিয়ে পড়লে নুরনাহার তাঁকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে মরদেহের হাত-পা টুকরো করে একটি পাতিলে ভরে রাখার অভিযোগ ওঠে। সকালে স্থানীয়রা নুরনাহারকে রক্তাক্ত দা হাতে ঘরের সামনে বসে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে। তৎকালীন পুলিশ জানিয়েছিল, নিহত টিটব মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ ও ঝগড়া এবং হাতাহাতি হতো। পারিবারিক কলহের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরনাহার এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত উল্যাহ এ রায় ঘোষণা করেন। সরকারি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বাচ্চু এবং আসামী পক্ষের আইজীবী ছিলেন এ্যাডভোকেট এনামুল হক। রায় ঘোষণার পর জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ