ভোলায় নৌযান শুমারি–২০২৬ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে নৌযান সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার (২ আগস্ট) সকালে ভোলা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনার প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ভোলা জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডা. শামীম রহমান।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভোলা কার্যালয় এই সেমিনার আয়োজন করন।
ইঞ্জিন চালিত নৌযান নিয়ে ডেটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারে মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নৌযান শুমারি-২০২৬। মূলত দেশের নৌ খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা, নৌ-নিরাপত্তা জোরদার এবং জেলে ও নৌ-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ শুমারি হচ্ছে।
দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি সমন্বিত ও নির্ভুল তথ্যভান্ডার তৈরির লক্ষ্যে আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে নৌযান শুমারি ২০২৬।
সেমিনারে 'নৌযান শুমারি ২০২৬' এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যপরিধি নিয়ে মূল প্রবন্ধ ও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করেন জেলা পরিসংখ্যানি অফিস, ভোলা এর উপপরিচালক মাকসুদুর রহমান।
ডেটাবেজ তৈরির জন্য দেশে প্রথমবারের মতো হচ্ছে নৌযান শুমারি।
সেমিনারে নৌ অধিদপ্তর, নৌ পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর প্রধান, নৌযান মালিক সমিতি,নৌযান শ্রমিক সমিতি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দসহ বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহন করেন।
সেমিনারে জানানো হয়, 'নৌযান শুমারি-২০২৬' -এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সমুদ্রগামী ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের সংখ্যা, ধরন ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় ডেটাবেজ তৈরি করা। এই তথ্যভান্ডার নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নৌ-
দুর্ঘটনা হ্রাস এবং নৌ-শ্রমিকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, শুমারির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই শুমারির মাধ্যমে জেলে ও নৌ-শ্রমিকদের ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তব পরিস্থিতি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ভিত্তিতে তাদের কল্যাণে কার্যকর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মসূচি নেওয়া যাবে। তাই সকলকে নর্ভয়ে সঠিক তথ্য প্রদান করে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা নৌযানের ডাটাবেজ তৈরির কাজে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা সিভিল সার্জেন ডা. মনিরুল ইসলাম,স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো: বেলাল হোসেন,জেলা তথ্য কর্মকর্তা
মো: শাহ আব্দুর রহিম নুরন্নবী সহ আরো অনেকেই বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে আরও জানানো হয়, আগামী ৩ ও ৪ আগস্ট দেশের দুটি জেলায় পাইলট অপারেশনের মাধ্যমে শুমারির প্রশ্নপত্র ও তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি যাচাই করা হবে। এরপর ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০ দিনব্যাপী মূল শুমারি পরিচালিত হবে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ