ভোলার বাণী ডেস্ক :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ৯টি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়ি ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জল অনুসন্ধান বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার, ঝালকাঠির বিষখালী ও সুগন্ধা নদীর পানি ৩৭ সেন্টিমিটার, ভোলা খেয়াঘাটের তেঁতুলিয়া নদীর পানি ২১ সেন্টিমিটার, দৌলতখানের সুরমা ও মেঘনা নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার এবং তজুমদ্দিনের সুরমা ও মেঘনা নদীর পানি প্রায় ১ দশমিক ২ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া বরগুনার বিষখালী ও খাকদোন নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার, পাথরঘাটার বিষখালী নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পায়রা ও শ্রীমন্ত নদীর পানি ৬৫ সেন্টিমিটার এবং উমেদপুরের কঁচা নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
তবে উজিরপুর ও বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদী, কাটিপাড়ার লোহালিয়া নদী এবং বাকেরগঞ্জের তুলাতলি নদীর পানি বাড়লেও এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
পাউবোর তথ্যমতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও কিছু এলাকায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
ইতোমধ্যে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে এবং কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে।
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, “দুপুরের পর হঠাৎ পানি বেড়ে যায়। ঘরের মধ্যেই পানিবন্দি হয়ে পড়েছি।”
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মুরাদ হোসেন বলেন, “কয়েকদিন ধরেই নদীতে পানি বেশি ছিল। আজ সকাল থেকে আরও বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের বাড়ির সামনের ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ