
মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার মনপুরায় আলাউদ্দিন (৪০) নামে এক কৃষককে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) দিয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে মারধর এবং মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জাকির হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক আলাউদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে তাকে নিয়ে এই নির্যাতন চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় ফরিদ ও কালাম তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। পরে উপজেলা বিএনপির দুই নেতার মধ্যস্থতায় ওই বিরোধের নিষ্পত্তি হলেও এর জেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা নারীঘটিত অভিযোগ তোলা হয়।
আলাউদ্দিনের ভাষ্য, ওই অভিযোগের অজুহাতে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলাল গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে তাকে জোরপূর্বক দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং জোর করে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। পরে বাজারে ঘুরিয়ে অপমান করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলাউদ্দিন বলেন, মারধরের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও ভয়ের কারণে চিকিৎসা নিতে পারেননি। তিনি বলেন, "আমার ছেলে একজন হাফেজ। পরিবারের সামনে আমি মুখ দেখাতে পারছি না। এই অমানুষিক নির্যাতনের বিচার চাই।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন দুলাল। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মারধর কিংবা মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ঘটনাটিকে নিন্দনীয় উল্লেখ করেছেন মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. কামাল উদ্দিন এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মিলন মাতাব্বর। তারা বলেন, দলীয় কার্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে বিএনপি সমর্থন করে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মনপুরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী রাহাত বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। কাউকে আটকে রেখে মারধর বা মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। ভুক্তভোগী চাইলে আদালতে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন। এখন পর্যন্ত থানায় এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি। পুলিশ বলছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ