প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৩, ২০২৬, ৩:৩৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২, ২০২৬, ৬:২৭ পি.এম
ভোলার আদালতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার :
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের গৃহবধূ আফজুন বেগম হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে গৃহবধূর স্বামী মোক্তার হোসেনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এম রেজা জাকের। এর আগে ২০১৯ সালে ৩০ জুন দিনগত রাতে উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ফুলকাচিয়া গ্রামে বসতঘরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, মোক্তার হোসেনের সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আফজুন বেগম। প্রায় ১৫ বছরের সাংসারিক জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। কিন্তু আসামি মোক্তার হোসেন তার ছোট শ্যালিকাকে প্রায়ই বাজে ইঙ্গিত করতেন এবং বিষয়টি তিনি তার বড় বোনকে জানালে তিনি প্রতিবাদ করেন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আফজুন বেগমকে তার স্বামী প্রায়ই মারধর ও নানা ধরনের নির্যাতন চালাতো এবং হত্যার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে মোক্তার হোসেন ২০১৯ সালে ৩০ জুন দিনগত রাতে ঘরের মধ্যে আফজুন বেগমকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে জামাতা মোক্তার হোসেনকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দীর্ঘ সাত বছর পর বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আসামির ১৬৪ ধারা জবানবন্দির আলোকে তাকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. তৈয়ব বলেন, এ মামলায় আসামি তার স্ত্রীকে গলাটিপে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। মামলাটি তদন্ত হয়েছে এবং আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষী এবং নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ সব বিষয় পর্যালোচনা করে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন এবং রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। এ রায়ে আমরা খুশি, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।
মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. ফরিদুর রহমান জানান, মামলায় যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা কেউ বলেননি যে আসামি হত্যা করেছেন। তবে আসামি নিজে স্বীকার করেছেন তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন, আর এ আলোকেই হাকিম তাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। এ মামলা আপিলে গেলে সাজা কমে আসতে পারে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভোলার বাণী ২০২২ ইং