ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী স্বাভাবিক প্রসবে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে নবজাতকটি হাসপাতালের নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনসিইউ) চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করা ওই নারীকে প্রসববেদনায় কাতর অবস্থায় দেখতে পান এক পথচারী নারী। পরে তাকে দ্রুত ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মামুনের নজরে এলে তিনি দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই ওই নারী একটি ফুটফুটে কন্যাশিশুর জন্ম দেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতির নাম রুমা। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় নিজের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানাতে পারেন না। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানান, এর আগেও তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তবে সেই শিশুটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
নবজাতকের বাবার পরিচয় জানতে চাইলে রুমা শুধু "দুলাল" নামের একজনের কথা উল্লেখ করেন। তবে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
মেয়ের নাম কী রাখতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে রুমা বলেন, তিনি শিশুটির নাম ‘সুমাইয়া’ অথবা ‘নাজমুন’ রাখতে চান। সুযোগ পেলে তিনি নিজেই মেয়েকে লালন-পালন করতে চান বলেও জানান।
এদিকে নবজাতকের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে তাকে দত্তক নেওয়া বা লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেন কয়েকজন ব্যক্তি ও দম্পতি। তাঁদের মধ্যে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত ইউনুস নামের এক ব্যক্তি জানান, তাঁর কোনো কন্যাসন্তান নেই। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি শিশুটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহী।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, "সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা প্রসববেদনায় কাতর এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে হাসপাতালের ভেতরে রেখে যান। পরে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তিনি স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন।"
তিনি আরও বলেন, "মা ও নবজাতক বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাদের সার্বক্ষণিক পরিচর্যার জন্য সেবিকা নিয়োজিত করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে বিষয়টি সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানানো হবে। প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।"
ভোলা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত কুমার সরকার বলেন, "মা ও নবজাতকের বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। চিকিৎসা শেষে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ