স্টাফ রিপোর্টার ॥
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম-২০২৬। “মেধা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন। রবিবার (১৪ জুন) ভোলা সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম, এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ, ঢাকা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. শামীম রহমান। গেস্ট অব অনার ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওসার (পিপিএম-বার)।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আজাহারুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল আল নোমান, ভোলা সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন, ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট নজরুল হক অনু, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি খালেদা খানম, দৌলতখান উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান, সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মেজবাহউদ্দিন আহমেদ, নাজিউর রহমান কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাকসুদুর রহমান, মাসুমা খানম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম, চরফ্যাশন সরকারি টিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শামছুন নাহার স্নিগ্ধা, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুসা কালিমুল্লাহ এবং জেলা ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর মাইনুদ্দিন সোহাগ। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস, ভোলার বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন তালহা তালুকদার বাধন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। একটি উন্নত, স্মার্ট ও উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান, গবেষণামনস্কতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে হবে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করবে। প্রদর্শনীতে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, স্মার্ট ডিভাইস, রোবোটিক্স, কৃষি প্রযুক্তি এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা সমাধানভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে। তাদের সৃজনশীল উপস্থাপনা দর্শনার্থী ও বিচারকদের প্রশংসা কুড়ায়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের মূল্যায়নে প্রথম স্থান অর্জন করে চরফ্যাশন সরকারি টিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে লালমোহন সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।
বক্তারা আরও বলেন, হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। আজকের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এবং দেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে ভোলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিক্ষা কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন ও গবেষণাধর্মী প্রকল্প উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চার পথ সুগম করবে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ