স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার ইলিশা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবারও নিজের অনুসারীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, অতীতে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীসংলগ্ন এলাকায় বালু উত্তোলন ও ব্লক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। এসব কারণে তিনি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে ‘বালু ও ব্লক ব্যবসার প্রভাবশালী ব্যক্তি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম তোফায়েল আহমেদের ঘনিষ্ঠজন বা পালক সন্তান পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, গত দেড় দশক ধরে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী তীরবর্তী এলাকায় বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় ছিল এবং আনোয়ার হোসেন সেই চক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ সময় সাধারণ মানুষ নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আনোয়ার হোসেনকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা না গেলেও সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তার অনুসারীদের তৎপরতা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, পুরোনো প্রভাববলয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি আবারও এলাকায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনের নাম ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার যে কোনো অপচেষ্টা রোধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান। তবে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ