স্টাফ রিপোর্টার ॥
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, গত ২০ বছর যাবৎ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের দেখা পায়নি। বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া উন্নয়নের অন্য কোনো মাধ্যম এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমাদের দেশের জণগণ গণতন্ত্রমনা, রাজনীতি সচেতন, তারা কোনো স্বৈরশাসককে মেনে নেয় না। অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন নানাবিধ নির্যাতন উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। ২০২৪ এর আন্দোলনে সারাবিশ্বের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে। সাধারণত আমাদেরকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরাশক্তিসমূহ একটু হেয় করে দেখতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম করেছে দেশবাসী সত্যিকার অর্থে এটি নিয়ে অনেক গর্ব করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্বের নিত্যদিনের ঘটনা কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে মানবাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। যে গুম, খুন এবং নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দেশবাসী কাটিয়েছে তা থেকে আজ আমরা মুক্ত। ভোলায় ৩ দিনের সরকারি সফরের শেষ দিনে (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ভোলা সার্কিট হাউসে সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আমি আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানের নির্বাচিত সরকার এদেশের মানুষের জন্যে সুখ এবং সমৃদ্ধি বয়ে নিয়ে আসবে। রাজনৈতিক দলের যে প্রধান কাজ অর্থনীতির উন্নয়ন সাধন সে ব্যপারে ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো মানুষ যেন কোনো ধরনের হেনস্তার শিকার না হয় এটাও আমরা দেখতে চাই। বাংলাদেশের মাটিতে আইনের শাসন ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা হোক এটাও আমরা আশা করি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে বিচার বিভাগ জামিন দিয়েছে, আমি মনে করি এটি ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি একজন নারী। বিচার বিভাগ নিশ্চয়ই বিচার বিবেচনা করেই জামিন দিয়েছেন। ‘রিফাউন্ড আওয়ামী লীগ’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটা আমার জানা নেই। যেহেতু দলীয় পদ (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য) থেকে পদত্যাগ করেছি তাই দলীয় রাজনীতি নিয়ে অতোটা মাথা ঘামাই না। তবে আশা করি বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলের একটা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকুক।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোপান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ