
॥ ড. টি. এন. রশীদ ॥
(গত পর্বের পর) : শতদল মহিলা সমিতি (কুইবেক) কর্তৃক দেওয়া : সংবর্ধনায় বক্তব্য, সম্মানিত সুধীমন্ডলী,
শরতের অপরূপ সুনীল আকাশ খন্ড খন্ড মেঘের বলাকা ভেসে যাচ্ছে। দূর হতে দূরান্তরে, আকাশের গায়েহালকা মেঘের আস্তরণ। মন্ট্রিয়েলে আকাশে বাতাসে গাইছে শ্যামস্নিগ্ধ শরতের আগমনী গান। বাড়ীতে বাড়ীতে রাস্তা ঘাটে বনে উপবনে নানা রকম বাহারী ফুলের সমাবেশ।
গ্লাডিয়া, জিনিয়া, ডালিয়া পেসেন্স জুঁই, বেলী গোলাপের সুগন্ধে মানুষের মন হয়ে উঠছে উতলা। এমনি সুচিস্নাত শুভ সন্ধ্যায় শতদল মহিলা সমিতি (কুইবেক) থেকে আমাকে যে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেছে আমি জানি না আমি এর কতটুকু উপযুক্ত। এ জন্য আমি আমার গভীর অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শতদলের একটি ব্যাপক অর্থ আছে- এস মা, এস ভাই, এস বোন- আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাতে হাত রেখে দেশের জন্য কিছু করি।
বাংলাদেশ থেকে যে সব মা-বোনেরা নতুন এসেছেন এই মন্ট্রিলে, তাদের গড়ে নেওয়ার জন্য শতদল মহিলা সমিতি কর্তৃক যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেমন- ইংলিশে কথা বলা, সেলাই শেখানো ও জনহিতকর কাজে প্রলুব্ধ করা। এগুলো মূলতঃ একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাদের এই নিবেদিত প্রাণ আমরণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এমন দৃঢ়তার কথা মন্ট্রিলের আর শুনেছি বলে মনে হয় না। এ যে মহান ব্রত মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা।
মানুষের কল্যাণে সংসারের শত বিঘ্নকে দূরে ঠেলে দিয়ে ক্ষমা সুন্দর মনে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেশের ও দশের জন্য নিজকে বিলীন করে দেওয়া আত্মশুদ্ধি ও আত্মত্যাগ ও আত্মনিষ্ঠার বিরল দৃষ্টান্ত। শতদল মহিলা সমিতির বিপুল আকাংখা দেখে আমাকে মাদার তেরেসার কার্যক্রমের সেবার আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের সকলেরই জানা বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ এলাকা।
বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের জীবন যাত্রা বিপর্যয় করে তুলেছে। চারদিকে মানুষের আহাজারি। ত্রাণের জন্য আকুতি। গোটা দেশ স্মরণকালের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানী ঢাকার অলিগলি ধীরে ধীরে প্লাবিত হচ্ছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা থমকে দাঁড়িয়েছে। দুর্গত মানুষের অভাব দেখা দিয়েছে। আশা করি শতদল মহিলা সমিতি (কুইবেক) তাদের সেবার হস্ত বাংলাদেশের জন্য দু'হাত বাড়িয়ে দিবে।
(চলবে-------------)
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ