ভোলায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত র্যালি, মহড়া ও আলোচনা সভায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান
জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৬৮

॥ ড. টি. এন. রশীদ ॥
(গত পর্বের পর) : নাহিদ, (স্মৃতিচারণ গল্প) : নাহিদকে তোমরা বুঝি দেখ নি? দেখলে নিশ্চয়ই ভালবেসে ফেলতে। সুন্দর ডাগর ডাগর চোখ। সে চোখ অনাদি অনন্ত কালের কথা কয়। সে চোখের ভাষা ভূবন বিস্মিত। অবাক করে দেয় মানুষের মন্ত্রমুগ্ধ মনকে। মাঝে মাঝে আমি তাকে দেখতাম কদাচিত তবুও যেন সে কালের সাক্ষ্য হয়ে আমার হৃদয় বশ করে রেখেছে।
বড় সহজ সরল অনাড়ম্বর মেয়েটি। সাদাসিধে দু’টো চোখ দিয়ে অতি সহজেই জয় করে নিতে পারত। আমার ছোট মেয়ের সাথে ওর খুব ভাব ছিল। সে আমার মেয়েকে খুব ভালবাসত। ভালবাসত বলেই ওর কাছে কভু কখনো আসত। তখনই ওকে আমি দেখতাম। আমার মেয়ে ও নাহিদ ছিল পরস্পর বান্ধবী ও ভালবাসার পুজারী। সেই থেকে আমি নাহিদকে ভালবেসে যাই আমার স্মৃতির পাতায়। নাহিদ তুমি ভাল থেক, সুখে থেক, আমার আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ থেক। প্রকৃত প্রেম, ভালবাসা আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে যে যাকে ভালবাসে সে ব্যতিত অন্য কেউ উপলব্ধি করতে পারে না। প্রকৃত প্রেম ও ভালবাসা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। প্রেম একমাত্র আত্ম উপলব্ধির বিষয়। প্রেয়সীকে বিদায় জানাতে যখন অঝোর ধারা বিনা কারণে জল এসে যায় এবং হৃদয় ছটফট করে অস্থির সময় কাটাতে হয়। তখনই প্রেমের চিত্রাংকন অঙ্কিত হয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন,
* যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই মাঠে।
* যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়। তবুও সে চলে যায়।
* যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে একলা চলো রে,
একলা চল, একলা চল, একলা চলোরে
সঙ্গপ্রিয় মানুষগুলো পৃথিবীতে কালের আবর্তনে এক সময় সঙ্গীহীন হয়ে পড়ে। তখন হারিয়ে যায় একে অপরকে। আর শুণ্যতা বিরাজ করে পরস্পরের হৃদয়। ফুটে ওঠে স্মৃতির পাতায় হারানো বেদনার কালোছাপ। তখন চোখ যে মনের কথা বলে।
ডালিম গাছের তলে : অন্য দেশের কথা জানি না। তবে আমাদের দেশে সম্ভবতঃ এমনটি আর ঘটে নি। এমনিত অদ্যাবধি ঘটনাটি অনন্য হয়ে আছে। কোন কবির পাঠ্য অবস্থায় ছাত্র অবস্থায় তাঁরই কবিতা পাঠ্য তালিকাভুক্তির কথা বলছি। জসীমউদ্দিন সম্পর্কে যাদের সামান্যতম আগ্রহ আছে। তারা সবাই সেই কবি ও কবিতার নাম জানেন। এই অনন্য ঘটনার নায়ক হলেন পল্লী কবি জসিম উদ্দিন। আর এ অসাধারণ কবিতার নাম “কবর”। ফরিদপুর “রাজেন্দ্রমোহন” কলেজে যখন বি.এ পড়ে, তখন এই কবিতাটিকে মেট্রিকের পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করেন বা করা হয়েছিল।
আমরা অনেক সময় আমাদের প্রিয় কবিকে কোন একটি বিশেষ কবিতায় কোন চরণে সাথে সম্পৃক্ত করি। এরূপ করে আমরা আনন্দ পাই। যেমন রবীন্দ্রনাথকে নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ নজরুলকে বিদ্রোহী কবি, যতীন্দ্র মোহন বাগচীকে কাজলা দিদি, জীবনানন্দকে বনলতা সেন এবং সুকান্তকে ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবীর গদ্যময় দিয়ে সম্পৃক্ত করি। জসিম উদ্দিনের তেমনি অমর সৃষ্টি “কবর” কবিতা।
কবর কবিতায় কবি অপরিসীম দরদী কণ্ঠে বিবরণ দিয়ে চলেছেন তাঁর নাতিকে।
এই খানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
কবি জসীমউদ্দিন ছিলেন মাটি ও মানুষের কবি। যিনি গ্রামের পল্লী এলাকার সাধারণ মানুষের জন জীবন নিয়ে ভাবতেন। তাদের সুখ দুঃখের ইতিহাস নিয়ে কবিতা লিখতেন।
তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে
আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায়, লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়।
গ্রাম বাংলার রূপকার পল্লী কবি জসিম উদ্দীন সব সময় গ্রামের প্রাকৃতিক বৈচিত্র নিয়ে লিখতেন। নিজ এলাকায় পার্শ্ববর্তী আসমানীদের বাস্তব সত্য চরিত তুলে ধরে আসমানী কবিতা রচনা করেন। সেই আসমানী (২০১২ সাল জুন মাস) আজও বেঁচে আছে। যা পত্রপত্রিকার শিরোনাম হয়ে উঠেছিল দীর্ঘদিন। কবি জসিম উদ্দীন আজ নেই। কিন্তু তাঁর স্মৃতি স্বরূপ কথাগুলো তাঁর হয়ে স্মৃতিচারণ করছে। এক আসে, এক যায় কারো নেই স্থিতি। নবীন আসে, প্রবীন চলে গিয়ে রেখে যায় স্মৃতি।
(চলবে———–)
