সর্বশেষঃ

কে হচ্ছেন ভোলা জেলা ছাত্রদলের কান্ডারী

মোঃ মাহে আলম মাহী ॥
ভোলা জেলা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর আগে। এখনও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম। সম্প্রতি ভোলা জেলা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের গুঞ্জন এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ও কৌতূহল কে হচ্ছেন সংগঠনের পরবর্তী কান্ডারী? কে ধরবেন সংগঠনের হাল?
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দৃষ্টি রয়েছে জেলার ত্যাগী, সাহসী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের দিকে। মূল আলোচনায় রয়েছেন পাঁচজন ত্যাগী, সাহসী ও পরীক্ষিত ছাত্রনেতা যারা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আবদুল আল রাসেল, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন মুন্না, জেলা ছাত্রদল নেতা নূর মোহাম্মদ রুবেল, বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম শরীফ এবং ভোলা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাকারিয়া মঞ্জু। ছাত্রদলের জনপ্রিয় মুখগুলো এক নজরে-
আবদুল আল রাসেল :
ভোলার ছাত্র রাজনীতিতে সাহসী মিছিল, আন্দোলন ও নেতৃত্বের জন্য পরিচিত নাম আবদুল আল রাসেল। রাজপথে সাহসী নেতৃত্ব, ত্যাগী ভূমিকার জন্যও তিনি বেশ পরিচিত। রাজপথে তিনি ছিলেন সবসময় প্রথম সারিতে। জুলাইয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে কন্ডেম সেলে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেশ যখন দ্বিতীয় স্বাধীনতা লাভ করে তখন তিনি জামিনের মাধ্যমে কারাগার থেকে মুক্তি পান। জেল-জুলুম, হামলা-মামলার মধ্যেও কখনো সংগঠন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। তাঁর সততা, দৃঢ়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে ছাত্রদের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলেছে। সাহসী মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে রাজপথে প্রমাণ করেছেন নিজের অবস্থান।
সাজ্জাদ হোসেন মুন্না:
ভোলা জেলা ছাত্রদলের অন্যতম দায়িত্বশীল মুখ সাজ্জাদ হোসেন মুন্না। সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সাথে যোগাযোগে নিবেদিত প্রাণ হিসেবেও তিনি বেশ পরিচিত। সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর বিচক্ষণতা এবং নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি বেশ প্রশংসিত। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মুন্নার নাম বিশেষভাবে আলোচিত। একাধিকবার হামলা-মামলা ও জেল জুলুমের শিকার হয়েও সংগঠনের প্রতি তাঁর এতটুকু ভালোবাসা কমেনি।
নূর মোহাম্মদ রুবেল:
আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজপথের আন্দোলন, মিছিল-মিটিংয়ে সাহসিকতার জন্য পরিচিত রুবেল ভোলার ছাত্রদলের অন্যতম প্রগতিশীল নেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের কার্যক্রমে যুক্ত। কর্মীদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সাংগঠনিক বিষয়গুলোতে দক্ষতার কারণে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। রাজপথের দুর্দিনের লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত এই নেতা বরাবরই ছিলেন ছাত্রদলের প্রথম সারির মুখ। সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীলতা, তৃণমূলের সাথে নিবিড় যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে দৃষ্টি কাড়ছেন।
জাহাঙ্গীর আলম শরীফ:
জাহাঙ্গীর আলম শরীফ একজন পরীক্ষিত, সাহসী ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। নানা আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নে তার নিরলস পরিশ্রম এবং ত্যাগ ছাত্র সমাজের মধ্যে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে, যা সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা এনেছে।
জাকারিয়া মঞ্জু:
জাকারিয়া মঞ্জু পৌর এলাকায় ছাত্রদলকে সুসংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। মিছিল-মিটিং, কর্মসূচি পালনে তার নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। তরুণদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তিনি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ছাত্রনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। বিগত দিনগুলোতে দলীয় সকল আন্দোলন সংগ্রাম ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নেতাকর্মীদের নজর কাড়েন।
পাঁচজনই পরবর্তী জেলা কমিটিতে নেতৃত্বের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে নেতাকর্মীদের মত। তৃণমূলের প্রত্যাশা-এই পাঁচজনের মধ্য থেকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল একজন যোগ্য, সাহসী ও সংগঠক নেতাকে ভোলা জেলা ছাত্রদলের হাল ধরার দায়িত্ব দেবে, যিনি ছাত্রদলের আদর্শকে আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করবেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, ভোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এমন একজন নেতার প্রয়োজন, যিনি সাহসিকতা, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে।
এখন সকলের নজর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দিকে। সিদ্ধান্ত যিনিই নিন, ভোলা জেলা ছাত্রদলের কর্মীদের প্রত্যাশা- নেতৃত্বে আসুক একজন ত্যাগী ও যোগ্য কান্ডারী, যিনি বিএনপির আদর্শ বাস্তবায়নে ছাত্রদলের পতাকা উঁচুতে রাখবেন। নেতাকর্মীরা বলছেন, যেই আসুক, হোক পরীক্ষিত, সাহসী এবং কর্মীবান্ধব। নেতৃত্বে আসুক এমন কেউ, যিনি দলের আদর্শ বুকে ধারণ করে ভোলায় ছাত্রদলকে সংগঠিত করে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন। এখন সময় সিদ্ধান্তের। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কি নেতাকর্মীদের এই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে ?
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১লা আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজিব আহসান ও সম্পাদক আকরামুল হাসান ভোলা জেলা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির অনুমোদন দেন। ছাত্রদলের প্যাডে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে মো: নুরে আলম সভাপতি, মো: আল আমিন হাওলাদার সাধারন সম্পাদক, মো: জসিম উদ্দিন সিনিয়র সহ-সভাপতি, নিয়াজ মিয়াজি যুগ্ম সম্পাদক, মো: জাহাঙ্গীর আলম শরীফকে সাংগঠনিক সম্পাদক ঘোষণা করে তিন বছরের জন্য ভোলা জেলা ছাত্রদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।