জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৬৭

॥ ড. টি. এন. রশীদ ॥
(গত পর্বের পর) : রাতে এসে হোটেলে ঘুমিয়ে পড়লাম। কখন তাজমহল দেখব। কখন ভোর হবে। ভোর হলে তাড়াতাড়ি নাস্তা খেয়ে তাজমহলের পথে পাড়ি জমালাম। আধা মাইল পথ হেঁটেই চললাম। কত রংবেরংয়ের ফুল, লতাপাতা বাহার আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল। তাজমহলের ভিতরে পৌঁচবার আগে এক বিশাল গেট। প্রহরী বেষ্টিত, টিকেট কেটে ঢুকতে হয়। টিকেট কেটে ঢুকলাম, তাজমহলকে যত দেখি ততই যেন বিস্ময় বোধ করি। কি কারুকার্য খচিত, কি এক বিশ্বের বিস্ময় সীমাহীন এক অপরূপ প্রেমের রাজপ্রাসাদ। প্রেম এখানে জয় লাভ করে বিজয়গর্বের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দূরে নীল যমুনা নদী ক্ষীণ হতে ক্ষীণতর হয়ে বয়ে চলছে। দিগন্ত বিদারী মাঠ, উন্মুক্ত সুনীল আকাশ, পাখির কলতান সব মিলেমিশে এক আনন্দঘন পরিবেশের সমারোহ। এই পরিবেশে তাজমহলের কাছে অনেকক্ষণ একাকী আপন মনে বসেছিলাম। সেখান থেকে আমার আর ফিরে আসতে ইচ্ছে হচ্ছিল না।
আমি অনিমেষ নয়নে তাজের গায়ে কারুকার্য খচিত লতাপাতা গুলির গুণ গুণ করে প্রেমের গান শুনছিলাম। যেন শুনছিলাম-
আমারো পরানো যাহা চায়…
তুমি তাই, তাই গো…
এক সময় যৌবনে এ গান গেয়ে ভার্সিটিতে একজন নাম করা শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলাম। এখন এই বৃদ্ধ বয়সে হঠাৎ যেন ভাবের সমুদ্রে সাঁতার কাটা শুরু করলাম। একটি কবিতাও লিখার সাধ হলো-
যমুনা কিনারে শাজাহানের
অন্তহীন চোখের জল,
তাজমহল, তাজমহল
তাজমহল, তাজমহল।
তাজের প্রতি ফুলে, লতায় পাতায়
শ্বেতপাথরের মর্মে মর্মে
হাজারো স্মৃতিময়,
প্রেম কথা কয়।
প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে, অবিনশ্বর প্রেমের
বিশ্বের সৃষ্টি সেরা প্রেমময়,
তাজের প্রতি ফুলে, লতায় পাতায়,
প্রেম কত কথা কয়।
বিশ্বে বিস্ময় নিয়ে,
হাজার হাজার লোক সেথায়,
কোথায় মমতাজ, কোথায় শাজাহান
খুঁজে খুঁজে নাহি পায়।
তবু চির শ্বাশ্বত প্রেমের আর্তি,
ঝরে মমতাজের স্মৃতি,
যমুনা কিনারে,
সম্রাট শাজাহানের কীর্তি,
শুধু কথা কয়,
এক বিন্দু নয়নের জল
কালের কপোলতলে
সমুজ্জল এ তাজমহল।
(চলবে—————)
