ভোলায় ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের লক্ষ্য জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভোলার ইলিশা মাছ ঘাটে জেলেদের নিয়ে এই সচেতনতামূলক সভা করে জেলা মৎস্য অফিস। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। এসময় কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি, নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধি, মৎস ব্যবসায়ী ও জেলেরা এতে অংশ নেয়।
সভায় জানানো হয়, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকার ২টি অভায়শ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য শিকার বন্ধ থাকবে। এতে করে জাটকা (ছোট ইলিশ) রক্ষাসহ অনান্য সব ধরনের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে প্রতিদিন স্থানীয় হাট-বাজার, জেলে পল্লী-মাছ ঘাট ও মৎস্য আড়ৎগুলোতে জেলেদের নিয়ে এ সচেতনতা সভা করছে।
জেলেদের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জানান দিতে ব্যানার, পোষ্টার, লিফলেট, মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এ সময়ে জেলেদের গ্রহণ করা ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার জন্য এনজিওগুলোকে চিঠি দেওয়ার জন্য আহবান জানান জেলেরা। ভোলার ২টি অভায়শ্রমসহ দেশের মোট ৬টি অভায়শ্রমে একইসময় থেকে মৎস্য শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, শুধু জাটকা নয়, এক সময় একই সাথে অনান্য সকল মাছের পোনা অভায়শ্রমে বড় হওয়ার সুযোগ পাবে। অভায়শ্রমে থেকে দু মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ইলিসসহ সব প্রকারের মাছের প্রাচুর্যতা বাড়বে ভোলায়। জেলার নিবন্ধিত এক লাখ ৬৮ হাজার জেলের মধ্যে লক্ষাধিক জেলে সহায়তা পেলেও অনিবন্ধিত প্রায় ৬৮ হাজার জেলে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে। তাই অনিবন্ধিত জেলেদের সহায়তার দাবি জানান মৎস্যজীবীরা।
তিনি আরো বলেন, এই দুই মাস জাটকা ধরা বন্ধে ৯০ হাজার ২শত ১৩ জন জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি চাল সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
