ভোলার তজুমদ্দিনে আশ্রমে আসা নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষনের অভিযোগ ॥ আটক-৩

স্টাফ রিপোর্টার : 

ভোলার তজুমদ্দিনে আশ্রমে আসা এক হিন্দু নারীকে টাকায় সমঝোতায় বাগানে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বামী পরিত্যাক্তা এক সন্তানের জননী ওই নারী চাঁদপুর ইউনিয়নের শায়েস্তাকান্দি গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯(৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-০৩, তারিখ-২৩-০২-২৬ইং। এ ঘটনায় এজাহার নামীয় ২ এবং তদন্তের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অপর এক আসামী মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই নারী ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী হাসপাতালের বেডে শুয়ে জানান, রবিবার রাতে চাঁদপুর ইউনিয়নের অনিল বাবাজী আশ্রমের কীর্তনে গেলে হোন্ডা চালক রাকিবের সাথে ১ হাজার টাকার সমঝোতা ধোপা বাড়ির পিছনে বাগানে যায়। এসময় শাকিল ও রাসেল নামে আরো দুইজন যোগ দিয়ে রাতভর দলবদ্ধভাবে তাকে জোড়পুর্বক ধর্ষন করেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে শশীগঞ্জ দাসপাড়া রেখে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী শশীগঞ্জ দাসপাড়া গ্রামের তুলসী রানী জানান, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘরের পাশে অচেতন অবস্থায় রক্তাক্ত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ধর্ষনের শিকার ওই নারীর মা বলেন, যারা আামার মেয়ের সাথে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে আামি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তজুমদ্দিন উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও অনিল বাবাজি আশ্রমের পরিচালক অরবিন্দু দে টিটু জানান, সকালে স্বপন কুমার দাসের মাধ্যমে ঘটনা অবগত হয়ে ভিকটিমকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করেছি, এবং প্রশাসনকে জানিয়েছি।
তজমুদ্দিন হাসপাতালের আরএমও ডাঃ শামসুল আলম সোহেল বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুস সালাম জানান, দলবদ্ধ ধর্ষনের ঘটনায় ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯(৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তথ্য প্রযুক্তি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এ পর্যন্ত এজাহার নামীয় ২ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অপর একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেস্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-এজাহার নামীয় ১নং আসামী রাকিব (৩০), ৩নং আসামী জুয়েল (৩৫) এবং অপরজন হলেন আল আমিন ওরফে সম্রাট (২০)। এরা প্রত্যেকেই তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের শশীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।
ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ তৈয়বুর রহমান জানান, ওই নারীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। বর্তমানে আমাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ ইব্রাহিম জানান, তজুমদ্দিনে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এ পর্যন্ত এজাহার নামীয় ২ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অপর একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই নেক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। গ্রেফতারকৃত আসামীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারী পরীক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ভোলা জেলা পুলিশ সার্বক্ষনিক পাশে রয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।