ভোলার মেঘনা পাড়ে শ্যালো টিউবওয়েল থেকে গ্যাস উঠার খবরে শত শত মানুষের ভীড়

শরীফ হোসাইন ॥
ভোলার মেঘনা নদী পাড়ে শ্যালো টিউবওয়েল থেকে গ্যাস বের হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ খবরে এলাকা জুড়ে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করছে ওই এলাকার জেবল হক মাঝির বাড়ীতে। রোববার দুপুর থেকে বের হওয়া এ গ্যাস স্থানীয়রা আগুন জ্বালিয়ে লোকজনকে দেখাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবী সরকার বিষয়টি জরুরীভাবে গ্যাস মিলবে কি না তা পরীক্ষা করে খতিয়ে দেখবে।
সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জেবল হক মাঝির বাড়িতে পাওয়া গেছে এই গ্যাসের সন্ধান। রোববার দুপুরে তার বাড়িতে একটি শ্যালো টিউবওয়েল স্থাপনের পর থেকেই ওই টিউবওয়েল থেকে প্রতিনিয়ত গ্যাস বের হচ্ছে। এমন খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শত শত মানুষ এমন দৃশ্য দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
জেবল হক মাঝি জানান, ৭০ ফুট পাইপ বসিয়ে পানি উত্তোলনের চেষ্টা করা হলে পানি না উঠে পাইপের ভেতর থেকে বুদ বুদ শব্দ বের হতে থাকে। এমন অবস্থায় টিউবওয়েল চাপলে গ্যাস বের হতে দেখা যায় এবং গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন জ্বালালে তা জ্বলে ওঠে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পানির সঙ্গে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। টিউবওয়েল স্থাপনের কাজে নিয়োজিত লোকেরা বুঝতে পারেন যেখানে কলটি স্থাপন করা হয়েছে তার নিচে গ্যাসের অবস্থান রয়েছে ধারনা করছেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন শ্যালো টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীরে যাওয়া হয়েছে, এই অল্প গভীরতায় গ্যাসের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। আর যদি এই স্থানে ডিপ টিউবওয়েলের জন্য ৮০০ থেকে ১০০০ ফুট গভীরে পাইপ স্থাপন করা হতো তাহলে পুরোপুরি গ্যাসের অবস্থান লক্ষ্য করা যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল গোলদার জানান, জেবল হক মাঝির বাড়িতে রোববার দুপুরে একটি শ্যালো টিউবওয়েল স্থাপন করার পরে গ্যাস উঠছে বলে খবর পেয়েছেন এবং নিজে এসে দেখেছেন। আমরা ধারণা করছি এই স্থানে গ্যাসের অবস্থান রয়েছে।
জেবল হকের ছেলে মোঃ মুছা জানান, শ্রমিকরা যখন পাইপ বসাচ্ছিল তখনই অস্বাভাবিক শব্দ পাই। পরে পরীক্ষা করে দেখি কল চাপলে গ্যাস বের হচ্ছে। গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন দিলে জ্বলে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী সাহেব আলী বলেন, খবর পেয়ে গিয়ে দেখি কল চাপলে গ্যাস বের হচ্ছে। লাইট দিয়ে আগুন দিলে জ্বলে ওঠে। এমন দৃশ্য এই এলাকায় আগে দেখিনি।


আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, শুরুতে মনে হয়েছিল পাইপে সমস্যা হয়েছে। পরে বুঝি গ্যাস বের হচ্ছে। আগুন দিলে তা জ্বলে ওঠে দেখে সবাই বিস্মিত হয়। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে মেঘনা পাড়ের শত শত বাসিন্দারা ভিড় করে তা দেখতে আসে। স্থানীয়দের ধারণা, জেলার অন্যান্য এলাকার মতো এখানেও গ্যাসের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম গোলদার বলেন, গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন জ্বালালে আগুন জ্বলছে। এ খবর চারদিক ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ তা দেখতে আসে। গ্যাস অনুসন্ধান কাজে নিয়োজিত বাপেক্সসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছে স্থানীয়রা।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।