ভোলার তজুমদ্দিনে আশ্রমে আসা নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষনের অভিযোগ ॥ আটক-৩
জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৬৫

॥ ড. টি. এন. রশীদ ॥
(গত পর্বের পর) : ২৪ এপ্রিল রাত ১১:৪০ মি.। এই এসএমএস এর পর এম. রহমান আর কোন এসএমএস দেয়নি। কিন্তু এম. রহমানের বিষয়টা বুঝতে বাকী ছিল না যে, মিস নিপার বিয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবোধ বলতে কিছু নেই। অথবা বিষয়টা নেতিবাচক ভেবে নিজের বিরল ব্যক্তিত্বের কথা চিন্তা করে- মহান সত্ত্বার নির্ধারিত অস্তিত্বের প্রতি মনোনিবেশ করে তার মাকে শেষবারের মত অন্য প্রসঙ্গ ক্রমে এ বিষয়টা ইঙ্গিত স্বরূপ বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন-
লোক সাহিত্যের কথা- পাগলে চিনে ইচা মাছ আর কদু আনাছ। সাধারণ রুচিশীলদের চিংড়ি মাছ আর লাউয়ের রান্নাই বড় স্বাদ। সুতরাং এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি সেন্টারের বান্নার কথা চিন্তাই করা যায় না। বিষয়টা সম্পূর্ণই রুচির ব্যাপার।
এম. রহমান তাঁর মাকে লক্ষ্য করে বলেন, তুমি যা ইচ্ছা পোষণ কর তা হয়ত তোমার ভাগ্যের বিপরীত। তুমি যা ইচ্ছা পোষণ করেছ তা শতভাগই তোমার আবেগ। আর আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন কিছুর প্রত্যাশা করা নিরর্থক ও নিষ্ফল। তোমার পুত্রবধু হিসেবে মহান স্রষ্টা যাকে নির্বাচন করেছেন, সে হয়ত এক সৌভাগ্যবান নারী। তোমার ছেলে ড. এম. রহমানের স্ত্রী। যাকে তুমি প্রথমে মেনে নিতে কষ্ট হলেও সে মহৎ (ফামু)। এ কথা তোমার নিকট শতভাগ বিশ্বাসযোগ্য হবে কি? জানি না। তবে তোমার ছেলে চিরন্তন সত্য বলে বিশ্বাস করে। এ ব্যাপারে তোমার ছেলের সামান্যতম অনুশোচনা নেই। কিন্তু তোমার আবেগের জন্য লজ্জা হয়।
তুমি যা ইচ্ছা পোষণ করেছ তা না হলে সেটা হবে তোমার জন্য দুর্ভাগ্য; না হয় বিপরীত পক্ষের অন্যদিকে যে তোমার পুত্রবধু হবে সেটা হবে তোমার ছেলের জন্য ভাগ্যের লিখন। যা মহান স্রষ্টা কর্তৃক নির্ধারিত। সে তার পক্ষে হোক আর বিপক্ষে হোক। কবির ভাষায়-
মানুষ যা চা ভুল করে চায়।
যা পায় তা চায় না।
এখানে বাস্তব দর্শন বি. কিন্তু সে পায় নি অথবা নিপা পায় নি। সুতরাং তাদের চাওয়া-পাওয়া উভয়ের ভুল ছিল। আর ভুলের পরিণাম উভয়কে নিতে হয়েছে কম আর বেশী। সুতরাং আমাদের সকলের বিশ্বাস করতে হবে ভাগ্যই সেরা। যদিও নিপা এম. রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পরবর্তীতে অগ্রগামী হয়ে ঈদ উপলক্ষে। এসএমএস-এর মাধ্যমে এগিয়ে এসেছিল। তার এসএমএস ছিল, May the day delight and the moments measure all the special joys for you to treasure happy Eid Mubarak.
১৯ আগস্ট ২০১২, রাত ৮:০৭ মি.। কিন্তু তখন এম, রহমানের পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবেশ ছিল না। এ পর্যায় এম. রহমান রবীন্দ্র সঙ্গীতের স্মৃতিচারণ করেন-
যদি তোমার ডাক শুনে কেউ না আসে,
তবে একলা চলো রে,
একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে….।
অনুরূপভাবে গায়কের কণ্ঠে অনুশোচনার গান গেয়ে যান
সুখে থেক ভাল থেক দূর থেকে দেখব
তবু তোমার জন্য মনের দুয়ার খোলা যে রাখব,
শুধু তোমারই থাকব, আমি তোমারই থাকব।
আমার হৃদয়ে লিখেছি যে, শুধু তোমার নাম
বিধাতার ইচ্ছায় যায়নি দেওয়া তোমার মনের দাম
তবু তোমার জন্য মনের দুয়ার খোলা যে রাখবো
শুধু তোমারই থাকব, আমি তোমারই থাকব।
বি.দ্র: কোন লেখক বা সাহিত্যিক সত্যকে গোপন রাখতে পারে না। তারা সর্বত্র বাস্তব ও স্পষ্টভাষী হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সে নিজস্ব ব্যক্তিস্বত্বাকে প্রকাশ করতে দ্বিধা করে না। সে তার পক্ষে হোক আর বিপক্ষে হোক। মনের গভীরের কথাগুলো না বলাই হচ্ছে তাঁর অপরাধ। সত্যিই, শিল্পী, কবি, সাহিত্যিকগণ গরিব- কিন্তু তাদের মনের গভীরে আছে প্রতিভার স্বর্ণমুকুট। ভাগ্য তাদের গলায় পড়িয়ে দেয় নি যশের জয়মালা-সৃষ্টিকর্তা তাদের সৃষ্টি করেছেন শ্রেষ্ঠতম করে- সে কথা কেহ জানে না। জানে শুধু একজন, সেই মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা।
(চলবে——-)
