চলতি বছর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ইলিশের প্রজনন ভিত্তিক ভিন্নতা দেখা যায়। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ.এফ.এম নাজমুস সালেহীন জানান, এবারের অভিযানে বরিশালের সুগন্ধ্যা, সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ইলিশগুলো পর্যালোচনা করি। এতে দেখা যায় "জো" তে প্রজননের জন্য প্রস্তুত মাছের সংখ্যা খুব কম ছিল, স্ট্রিপিং করলেও সহজে স্পার্ম বা ডিম বের হতো না।
অমাবশ্যার "জো" তে যে মাছগুলো পাওয়া গিয়েছিল তাদের প্রায় সবাই প্রজননের জন্য পিক টাইমে ছিল, কারণ-
ক) কিছু মাছ (পুরুষ ও স্ত্রী) সদ্য প্রজনন সম্পন্ন করেছিল।
খ) স্ত্রী মাছের জননছিদ্রের সাথে পুরুষ মাছের স্পার্মও লেগে থাকতে দেখেছি।
গ) অধিকাংশ পুরুষ মাছ জাল থেকে ছাড়িয়ে নৌকায় রাখার সাথে সাথেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদা স্পার্ম বেরিয়ে গায়ে লেগে যাচ্ছিল যা তার পিক টাইম নির্দেশ করে।
ঘ) স্ত্রী মাছগুলোকে হালকা স্ট্রিপিং করলেই ডিম বের হয়ে আসছিল ও জননছিদ্র লাল হয়ে বাইরে কিছুটা বেরিয়ে ছিলো।
৩. এবারের জালে আটকে যাওয়া মাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পুরুষ মাছ ছিল যা আমার গত ৯ বছরের ভোলা ও বরিশালের চাকরি জীবনে চোখে পড়েনি- একই সাইজের পুরুষ মাছগুলো তুলনামূলকভাবে চিকন ও স্ট্রিপিং করলে ধবধবে সাদা গাড় স্পার্ম বের হয় এবং স্ত্রী মাছগুলো মধ্যভাগে তুলনামূলক মোটা ও স্ট্রিপিং করলে ডিমগুলো বের হয়।
৪. এবার মাছের গড় সাইজ ছিল বিগত ৯ বছরের মধ্যে আমার দেখা সবচেয়ে ছোট।
৫. প্রজননক্ষম মাছের বেশিরভাগের গড় আকার ছিল ৬.৫ ইঞ্চি থেকে ১১ ইঞ্চি পর্যন্ত, আমি ৬.৫ ইঞ্চি সাইজের পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে হালকা স্ট্রিপিং করেই ফিনকি দিয়ে স্পার্ম ও খুব সহজেই ডিম বের হয়ে আসতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য: ১. ০৪.১০.২৫ তারিখ হতে ২৫.১০.২৫ তারিখ পর্যন্ত এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
২. ০৭.১০.২৫ তারিখ পূর্ণিমা ও ২০.১০.২৫ তারিখ অমাবশ্যা ছিল
পর্যবেক্ষণকারী
এ. এফ. এম. নাজমুস সালেহীন
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, বাবুগঞ্জ, বরিশাল
বিসিএস (মৎস্য), বিএসসি (অনার্স) (মৎস্যবিজ্ঞান), এম এস (মৎস্যবিজ্ঞান), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ