১৩ই আগস্টের এমন একটি বৃহৎ আন্দোলনের পরে মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া বাড়ানো-শিক্ষকদের সঙ্গে এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে? তাও আবার শিক্ষক দিবসে! শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের নিয়ে এই প্রহসন ! তবুও আমাদের শিক্ষক নেতারা সেন্ট্রাল থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত সর্বত্র শিক্ষক দিবসের আলোচনা ও র্যালিতে অংশ নিয়েছেন এবং সেই ছবি এফবিতে পোস্ট করেছেন। কী লজ্জাজনক! ছি! আমরা এতটা নিচে কীভাবে নেমে গেলাম!
আমরা আসলেই ছোট। ব্যক্তিমর্যাদাহীন। ডিসির পেছনে বা পাশে একটু হাঁটতে পারলেই মনে করি আমরা খুব বড় কিছু হয়ে গেছি। তো আমাদের তো ভিক্ষাই দেওয়া হবে, তাই না? সারা বাংলায় আজকের শিক্ষক দিবসে কোনো শিক্ষক কর্তৃক আলোচনা বর্জনের একটি নিউজও পেলাম না। শিক্ষকদের এই অপমান, এই গ্লানি নিয়ে একটি বক্তৃতাও ভাইরাল হতে দেখলাম না। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা উপদেষ্টার উপস্থিতিতে শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভা হয়েছে। প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষাউপদেষ্টা।তো সেখানে নিশ্চয়ই শিক্ষকদেরকে রিপ্রেজেন্ট করে এমন কেউ ছিলেন। তিনি এই প্রহসনের প্রতিবাদ করে আলোচনা সভা বর্জন করতে পারতেন না?
আরে ভাই, এই শিক্ষক দিবসে ভিক্ষাদানস্বরূপ ৫০০ টাকা বাড়িভাড়ার প্রতিবাদে শিক্ষা উপদেষ্টা বা স্ব স্ব জেলার ডিসিদের উপস্থিতি থাকা অবস্থায় আলোচনা সভা ত্যাগ (ওয়াকআউট) করার মেরুদ- বা সাহস যদি আপনার না-ই থাকে, তাহলে আপনি মর্যাদা চাচ্ছেন কেন? মর্যাদা এত সোজা না।
মাকছুদুর রহমান তুহিন
প্রভাষক (ইংরেজি)
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল কলেজ, ভোলা সদর।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ