ডেস্ক রিপোর্ট ॥ যেকোনো ফুলই প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলে। যা মন এবং চোখের প্রশান্তি জোগায়। এমনইভাবে ভোলার লালমোহন উপজেলার পথে-প্রান্তরে বর্তমানে ফুটে রয়েছে রক্তজবা ফুল। এ ফুলে প্রকৃতি যেন সেজেছে অনাবিল সৌন্দর্যে। উপজেলার বিভিন্ন মেঠোপথ, সড়কের পাশে ও বাড়ির আঙিনায় লাল রঙে ছেয়ে আছে টুকটুকে রক্তজবা ফুল। এসব ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করছেন নানা বয়সী মানুষ। মুগ্ধতা ছড়ানো এই রক্তজবায় নিজের অজান্তেই মুহূর্তের জন্য চোখের দৃষ্টি আটকে যায় যে কারও। শিশুদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ এই টুকটুকে রক্তজবা। তারা এ ফুল নিয়ে মেতে ওঠে আনন্দে।
জানা গেছে, জবার অনেকগুলো প্রজাতি রয়েছে। এরমধ্যে রক্তজবা, ঝুমকাজবা, বহুদল জবা, জবা কুসুম, গোলাপি জবা ও মরিচা জবা সুপরিচিত। জবা ফুল আকারে বড় হয়। এ ফুল পঞ্চমুখী ও থোকা আকারের হয়ে থাকে। জবা মালভেসি গোত্রের অন্তর্গত চিরসবুজ পুষ্পধারী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস পূর্ব এশিয়াতে। জবা ফুলকে চীনা গোলাপও বলা হয়, যদিও এটি গোলাপ নয়। এর নানা রঙের ফুলের জন্য বাগানের শোভাবর্ধনে লাগানো হয়। লালমোহন পৌরশহরের একটি কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরোজা বলেন, ফুল দেখলেই মনে অন্য রকম এক প্রশান্তি দেখা দেয়। যেকোনো ধরনের ফুলই মানুষকে জাদুর মতো আকৃষ্ট করে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্নস্থানে ব্যাপকভাবে দেখা মিলছে রক্তজবার। এ ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতিও যেন অনন্য রূপে সেজে ওঠেছে।
লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পাঙাশিয়া এলাকার যুবক সুমন চৌধুরী জানান, আমাদের বাড়ির দরজায়ই রয়েছে কয়েকটি জবা ফুলের গাছ। গাছগুলোর কোনো যত্ম না করলেও স্বমহিমায় নিজের সৌন্দর্য বিলাচ্ছে জবা ফুল। এই ফুলের সৌন্দর্য দেখে মনভরে যায়। আগামীতে শোভাবর্ধনের জন্য বাড়ির দরজায় আরও কিছু জবা ফুলের গাছ লাগাবো।
ভোলা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. জামাল উদ্দিন জানান, জবাফুল যেমনিভাবে প্রকৃতিতে সৌন্দর্য বিলায়, তেমনিভাবে এর রয়েছে নানা ওষুধি গুণাগুণও। তাই প্রত্যেকের উচিত অন্যান্য গাছের সঙ্গে একটি-দুইটি করে এই জবাফুলের চারা রোপণ করা। তাহলেই প্রকৃতিতে নানা গুণাগুণ সম্পূর্ণ এই জবাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। এ জন্য সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসা উচিত।
লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডা. মো. ইউসুফ হোসেন বলেন, বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে নিজের সৌন্দর্য উজাড় করে দিচ্ছে রক্তজবা। তবে এই জবা কেবল সৌন্দর্যই বিলায় না, এর রয়েছে ভেষজ গুণও। আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় জবার ভূমিকা অপরিসীম। মানবদেহের নানা রোগ নিরাময়ে এটি ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রনুযায়ী চুল দীর্ঘ ও উজ্জল করতে জবা অত্যন্ত কার্যকরী। শরীরের ক্ষত নিরাময়েও জবার ব্যবহার হয়। জবা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করে। এছাড়া জবা অতিরিক্ত ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ