স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান মাস্টারের বাম হাতের কব্জি কেটে ফেলেছে প্রতিপক্ষ। এ সংঘর্ষে কমপক্ষে আরও ২০ জন আহত হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের মজম বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আনিসুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি বোরহানউদ্দিনের দেউলা ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আমির হোসেন বেপারিকে সভাপতি ও জাবেদ ইকবাল সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ওই কমিটি গঠনের পূর্ব থেকেই সভাপতি ও সম্পাদক দু’গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কমিটি গঠনের পর থেকে দু’গ্রুপের দ্বন্দ্ব সংঘর্ষে রূপ নেয়।
দেউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল সোহেল জানান, দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অন্যায় অনিয়মের ব্যাপারে কঠোর হওয়ায় সভাপতিসহ তার লোকজন আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। রোববার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের হওয়ার পর সভাপতি আমির বেপারিসহ তার ছেলের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ অতর্কিত তাদের ওপরে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আমির বেপারির ছেলে কুপিয়ে ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমানের বাম হাতের কব্জি কেটে ফেলে।
বোরহানউদ্দিন থানার ওসি ছিদ্দিকুর রহমান জানান, মারামারির ঘটনায় একজনের হাতে কোপ দিয়েছে শুনেছি। তবে থানায় কেউ অভিযোগ বা জিডি করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, প্রতিপক্ষের হাতের কব্জি কাটার পরপরই সভাপতি আমির বেপারির মেয়ে তানিয়া নিজের ফেসবুকে এ ঘটনাকে ‘বাবা দিবসের উপহার’ বলে উল্লেখ করে পোস্ট দেন। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।
উল্লেখ্য, দেউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল সোহেল ভোলা-২ আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাইকমান্ড ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে এবং গুরুতর আহত আনিসুর রহমান ছিদ্দিকুর রহমানের ভাতিজা।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ