স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশিভূষণ থানাধীন বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের পদত্যাগকারী অধ্যক্ষ ও ১৩নং এওয়াজপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম স্ব-পদে ফিরতে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক গ্রুপকে ম্যানেজ করে আবারও মরিয়া হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগকারী অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের এমপিওভুক্তি জালিয়াতির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করতে মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর (৬ এপ্রিল) রোববার আবেদন করেছেন বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) মো: জহুরুল ইসলাম ও বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের গভনিং বডির সভাপতি।
মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর ঢাকায় পাঠানো অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার শশিভূষণ থানাধীন ‘বেগম রহিমা ইসলাম কলেজটি’ ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হয়। ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারী গভনিং বডির সভাপতি সাবেক চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন পদত্যাগ পত্র গ্রহন করেন। পরে সভাপতি জ্যেষ্ঠ ৫ জন শিক্ষকের মধ্য থেকে মো: শরীফুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন। গভনিং বডির সভাপতি মোঃ রুহুল আমীন ২০২০/৯/৩৫ স্মারক পত্রে জাহাঙ্গীর আলমের পদত্যাগের বিষয়টি কলেজ পরিদর্শক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করেন। একইভাবে পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর, আঞ্চলিক কার্যালয়, চেয়ারম্যান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বরিশাল ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা চরফ্যাশন ভোলাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়।

এদিকে শশিভূষণের বিশিষ্ট সমাজ সেবক এবি সিদ্দিক মিয়া পদত্যাগকারী সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম কলেজে কর্মরত থাকাকালীন অনিয়ম তদন্ত করতে ওই কলেজের সভাপতির কাছে আবেদন দিয়েছেন। ওই আবেদন সূত্রে আরও জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম ২৬/০৮/২০০০ইং তারিখে রসুলপুর নাজিম উদ্দীন আলম ডিগ্রি কলেজে সমাজ কল্যাণ বিষয়ে প্রভাষক পদে ৩য় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু সেসময় ডিগ্রি কলেজে এমপিওভুক্তিতে ৩য় শিক্ষকের বিধান না থাকায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চরফ্যাশন কলেজের সমাজ কল্যাণ বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক শাহাবুদ্দিনের এমপিও শীটের নাম ও ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন করে নিজের নাম জাহাঙ্গীর আলম মুদ্রন করে ২০০৪ সাল এমপিওভুক্ত হন এবং ৩/৪ মাস বেতন ভাতা ভোগ করেন।
অপরদিকে চরফ্যাশন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহাবুদ্দিনের জন্মতারিখ ১৩/০৮/১৯৪৪ হওয়ায় তার চাকরি মেয়াদ পূর্ণ হলে এমপিও শীট থেকে এমপিও ইনডেক্স নং AP-007645 স্বয়ংক্রিয় ভাবে কর্তন হয়ে যায়। যার ফলে জাহাঙ্গীর আলমের বিলও বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও থেমে থাকেনি জাহাঙ্গীর আলমের অনিয়মের কারিশমা !। এরপর তিনি চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক সালমা নাসরিনের এমপিও ইনডেক্স নং LEC-839335 ব্যবহার করে পুনরায় ০১-০৯-২০০৫ ইং সালে ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়ে ০১-১০-১৯ইং পর্যন্ত বেতন ভাতাদি ভোগ করেন। ০২-০৯-২০ইং বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ থেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি।
অভিযোগ এবি সিদ্দিক আরও উল্লেখ করেন, একজন পদত্যাগ কারী অধ্যক্ষ পদে ফিরে আসতে মহামান্য হাইকোর্ট রীট, বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার সামিল। এ ব্যাপারে বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ (পদত্যাগকারী) জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিককে বলেন, আমি কলেজে থেকে পদত্যাগ করিনি। সেসময় আমার কাছ থেকে জোড়পূর্বক স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। আমি জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসক ভোলা, পরিচালক মাধ্যমিক শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সাবেক) ও বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের তাৎকালীন সভাপতি মোঃ রুহুল আমীন সাংবাদিককে বলেন, আমি সভাপতি থাকাকালীন জাহাঙ্গীর আলম পদত্যাগ করেছেন।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ