
ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : আমি বাস স্টেশনে এসে দেখি বাস প্রায় চলে আসছে। আমি বাসে উঠে বসলাম। আজ যেন মন আমার কবুতরের মত হল্কা ডানা মেলে উড়ে যেতে ইচ্ছে করছে। দোলা যে আমার নাতনী, আপন জন। যেন কত মায়া মমতায় গভীর ভালবাসায় আমাকে কাছে টানে। আমার ছোট্ট নীড় তার আগমনে কল্যাণীয় হয়ে উঠেছে। ছোট্ট একখানা কাচিমুখ যেন আমাকে আধো আধো কথায়, আধো ভাষায় চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায়।
আমি বাসে বসে অলীক স্বপ্নে বিভোর হয়ে ছিলাম। বাস কঙ্কোডিয়ার কিছু দূরে আমাকে নামিয়ে দিল। আমি অল্পক্ষণের ভিতর এসে কঙ্কোডিয়া পৌছে ক্লাশে ঢুকে গেলাম। প্রতিদিনের মত সেদিনও ক্লাশ নিলাম। শেষে কমন রুমে এসে সঙ্গি সাথীদের সাথে যোগ দিলাম। দোলার আগমনের কথা বললাম। সকলেই খুশী হল, বাহ নাতনী এসেছে। প্রশান্ত বাবুর বেশ মজা, নাত-নাতনী নিয়ে বেশ জমা করছে। আমাদের এমন ভাগ্য কখন হবে কি না জানি না। তারপর নাত জামাই প্রশান্ত বাবু খুব বড় কপালে। এমনি নানা কথা, জানি না কি তাদের ঠাট্টা না সত্যি কথা। না আমাকে নিয়ে মজা চালাচ্ছে, বুঝলাম না।
আমি বথিক হয়ে ফিরে এলাম। বাস ধরে শালভাদরের বাসায়। এসে দেখি দোলা আমার পথ চেয়ে বসে আছে। দোলা বলল, দাদু তুমি এতদেরী করলে কেন ? সেই কখন থেকে বসে আছি না খেয়ে। আমি বললাম সেকি ? এতক্ষণ না খেয়ে কেন আছিস, শরীর খারাপ করবে। দোলা হাসল, বলল দাদু আমি কচের জন্য সব সময় না খেয়ে পথ চেয়ে বসে থাকি, কচ খুব খুশী হয়। আমি বললাম, না না এমন করো না; শরীর স্বাস্থ্যের প্রতি সব সময় লক্ষ্য রেখ। আমি খাওয়ার টেবিলে তাড়াতাড়ি বসে পরে খেতে আরম্ভ করলাম। দোলা আমার পাশের চেয়ারে বসে দাদু ওটা খাও, সেটা খাও বলে শত আবদারে আমাকে অভিভুত করে ফেলল। সত্যি তবু এই বিদেশে বিভুঁয়ে একজন আছে, আদরে আপ্যায়নে আমাকে ¯েœহের শাসনে মন ভরে দেয়। খেতে খেতে মা-কাকিমাদের কথা মনে পরল। আজ তারা নেই, তবু তাদের স্মৃতি আমাকে অহরহ দংশন করে। তবু তাদের আমি ভুলতে পারি না। শয়নে স্বপনে ঘুম-জাগরনে আমি তাদের উদ্দেশ্যে প্রণাম জানাই।
দোলা বলল, দাদু তুমি কি ভাবছ। এত আনমনা হয়ে যাচ্ছ কেন ? তোমার শরীর ভাল-ত ? আমি বললাম, ভাল, ভাল অনেক অনেক ভাল। তোর নিজের শরীরের যতœ নিস। সেদিনের মত খেয়ে দেয়ে উঠে নিজের রুমে শুয়ে আমি যেন আকাশ পাতাল ভাবছিলাম। জীবনের ফেলে আসে দিনগুলো যেন কত তাড়াতাড়ি চলে গেল। তাদের আমি ধরে রাখতে পারি নি। কেন পারলাম না, হতাশায় ব্যর্থতায় গ্লানিতে আমি পলে পলে দগ্ধ হয়ে যাচ্ছি। আমি কাউকে বোঝাতে পরি না। আমার কি দুঃখ-বেদনা, কি না পাওয়ার ব্যথা। মর্মে মর্মে, তিলে তিলে আমি নিজে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছি।
(চলবে---------------)
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ