
ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : দোলা তেমনি নির্বিকার চোখে সব দেখছে, কোন উচ্চ-বাচ্চ করছে না। কিন্তু কচ খুব হাক-ডাক করছে। কখন বাস ওয়ালাকে বকচে, কখন ট্যাক্সি ওয়ালাকে ধমকাচ্ছে। আমি গাড়ীর ষ্টিয়ারিং হুইল ধরে আছি। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক এরকম করে বাড়ীর কাছে এসে গাড়ী থামল। আমি ও কচ নেমে গাড়ীর পেছনে থেকে মাল পত্র নামিয়ে নিয়ে দোতলায় তুললাম। দোলা গাড়ীর দরজা খুলে ধীরে ধীরে উপরে উঠে এগিয়ে ঘরের কলিং বেল টিপল, উমা এসে দোলাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। দোলা উমাকে পা ছুয়ে প্রণাম করল। উমা বলল থাক থাক ওসব লাগবে না। তুমি সুখে থাক। কচও উমাকে নমস্কার করল। সকলে ড্রইং রুমে এসে বসল। হেমন্ত তখনও কার্লমার্কস এর বই নিয়ে নারাচারা করছিল, বোধহয় এতক্ষণ পড়েছে। দোলা হেমন্তকে দেখে আমাকে জিজ্ঞাসা করল দাদু ওনি কে ? আমি বললাম, আমার পরিচিতি ঢাকা থেকে এসেছে। হেমন্ত সকলকে নমস্কার বিনিময় করল। কচও ছেলেটির সম্মন্ধে জানতে চাইল, আমি ওর পরিচয় দিলাম।
দোলা বলল, বাঃ দিব্বি ছেলেটিত ঠিক আমার ছোট ভাই ইন্দ্রনীল এরম ত মুখ খানা। হেমন্ত মিষ্টি করে হাসল, কচ মুখ হাত ধুয়ে এসে চা খেল। উমা যে সব পিঠে চিড়ে তৈরী করেছিল, সব কচ এর সামনে ধরে ধরে সাজিয়ে দিল। কচ লজ্জাবনত হয়ে কিছু মুখে দিল। উমা দোলাকে কাপড়-চোপড় বদলাতে আদেশ করল। দোলা ড্রইং রুমে উঠে ভিতরের রুমে গিয়ে কাপড় বদলিয়ে বাথরুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে ডাইনিং টেবিলে বসল। হেমন্তকে ডাকল এসনা ভাই এস, কিছু খাও, হেমন্ত বলল আপনারা খান, আমি খেয়েছি। মাসিমা আমাকে সবকিছুই একটু একটু খেতে দিয়েছিল। এখন আর খাব না, তবু দোলা বলল এস কিছু খাও। উমা বলল ছিঃ হেমন্ত এস দিদি ডাকছে। এস, না হলে ও রাগ করবে, তোমাকে আর কখনও আদও করবে না। কাছে ডেকে স্নেহের কথা বলবে না। হেমন্ত দোলার পাশের চেয়ারে এসে বসল। দোলা ওর প্লেটে নারকেলের চিড়ে দিল। হেমন্ত তাই ছোট চায়ের চামুচ দিয়ে একটু একটু করে তুলে মুখে দিচ্ছিল। দোলা মাঝে মাঝে হেমন্তের মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে কি যেন ভাবছিল।
কচ দিব্বি খেয়ে দেয়ে ড্রইং রুমের বড় সোফাটায় শুয়ে আজকের খবরের কাগজটা নাড়াচাড়া করছিল। আর দরকারী খবরগুলি পড়ছিল। আমিও কচের কাছে গিয়ে বসলাম। ওর সাথে নানাবিধ কথা নিয়ে আলাপ আলোচনা করলাম। দোলা, উমা, হেমন্ত, এই ৩জনকে দিব্বি মজার মজার গল্প করছিল। হেমন্ত দেখলাম মেয়ে মানুষের সাথে গল্প করতে পটু, বেশ কিছুক্ষণের মধ্যে জমিয়েও ফেলেছে। দোলা যেন হেমন্তকে দেখে খুব খুশী হয়েছে, বলছিল ওর ভাইর মত নাকি মুখ খানা। আমিও দোলার হাসি খুশী ভাব দেখে চিন্তামুক্ত হলাম। উমা কিচেনে বস গোছ গাছ করছিল। হেমন্ত বলল, আসি মাসিমা। উমা বলল, এত রাতে যাবে হেমন্ত, থেকে যাও না ? কাল সকালে যেও, দোলাও বলল; থাক, এত রাতে যাবে ? কল যেও।
হেমন্ত বলল, মন্ট্রিলের মত জায়গায় এত রাত মোটেই না। রাত ১২টা পর্যন্ত আমি দিব্বি রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে পারি। আপনারা বলছেন এত রাত ? কোথায় এত রাত হয়েছে ? উমা বলল, বেশ-তুমি সাহস করলে যাও। আবার এস। হেমন্ত উঠে দাঁড়াল, উমা ওকে দরজা খুলে দিল। হেমন্ত চলে গেল। দোলা বসেছিল ওর মুখে ভীষণ ক্লান্তির ছায়া আমি বেশ বুঝতে পারছি। কচ মনের আনন্দে অনেক গাল-গল্প করছে। ও-ত আমার এখানে অনেক আগে, বিয়ের আগেও এসেছিল তাই বাড়ী ঘর, পথ-ঘাট সবই ওর নখ দর্পণে। উমা এসে বলল, দোলা এস বিশ্রাম করবে, আমার ঘরে চল। দোলা খুব অলস মন্থর গতিতে পা চালিয়ে চলে গেল।
(চলবে---------------)
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ