আব্দুস সহীদ তালুকদার/শরীফ হোসাইন ॥ হাজারো মানুষের ভালবাসায় চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের পশ্চিম রুহিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: সাইদুল হাসান সেলিম স্যার। মঙ্গলবার (৭ মে) সকাল ৯টায় ভোলা শহরের ভোটের ঘর স্কুল মাঠে প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার গ্রামের বাড়ী দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামে বাড়ীর সামনের প্রাইমারী স্কুল মাঠে সকাল ১১টায় দ্বিতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ বিদায়ের লক্ষে উভয় জানাযায় হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রথম জানাজায় ভোলা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা, ভোলা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ইউনুস, বাপ্তা ইউপি চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান বিপ্লব মোল্লা, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আলীনগর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির কামাল বক্তব্য রাখেন। এ সময় ভোলা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ভোলা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহ আলী নেওয়াজ পলাশ, পৌর ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফরানুর রহমান মিথুন মোল্লাসহ হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এরপর তাকে নেয়া হয় গ্রামের বাড়ীতে। শালা গ্রামের বাড়ীতে নেয়া হলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ছোট-বড় সকলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সেখানকার প্রাইমারী স্কুল মাঠে মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভোলা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা, ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসার দীপক হালদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রকিবুল হাসান, জেলা শিক্ষা গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ নূরে আলম সিদ্দিকী, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ সিরাজুল ইসলাম শাওন, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব ও আলীনগর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির কামাল, বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজের অধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ, ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম ভোলা জেলা কমিটির সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (কামরুজ্জামান) ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মীর মোহাম্মদ আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন তালুকদার, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) জেলা শাখার সভাপতি মোঃ গোলাম মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি টিপু সুলতান, সম্পাদক মুসা কালিমুল্লাহ, হালিমা খাতুন মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম, চন্দ্রপ্রসাদ কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল হোসেন জুয়েল, চরসামাইয়া বন্ধুজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সহিদ তালুকদার, সহকারী শিক্ষক মোঃ এ এইচ রহমান, পশ্চিম রুহিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মহিবুল আলম, সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ জামাল, চরসামাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, খালেদা খানম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হিরন, নলগোড়া শরীফ বাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফ মুহা: মিজানুর রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বেগম, সহকারী শিক্ষক মাইনুদ্দিন, মেহেদী হাসান, রিতা রানী ভক্ত, রামকৃষ্ণ, আতিকুর রহমান, শরীফ হোসাইন প্রমূখ।
এদিকে শিক্ষক সংগঠনের পথিকৃৎ এই মহান শিক্ষকের মৃত্যুতে সারা বাংলাদেশের শিক্ষক কর্মচারী, অভিভাবক মহল ও শিক্ষার্থী পরিবার শোকাহত। তিনি দীর্ঘ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রামসহ শিক্ষকদের কল্যাণে সুখ-দুঃখের সাথী হিসেবে কাজ করে গেছেন। তার দীর্ঘ শিক্ষক জীবনে কোন কলঙ্ক নেই। তিনি ভোলা জেলা তথা বাংলাদেশের শিক্ষক মহলে একজন প্রিয় শিক্ষক নেতা হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। যার ফলে দ্বীপ জেলা ভোলার কৃতি সন্তান হয়েও বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতির জায়গায় নিজেকে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তার নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছেও ছিলেন একজন প্রিয় মানুষ। শিক্ষকদের অনেকেই বলতেন কেন্দ্রীয় শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি দেশের কেন্দ্র থেকেই হওয়ার কথা কিন্তু এত বড় একটি পদে ভোলা থেকে সভাপতি হওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৬ মে) ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে কর্ণফূলী-১৪ লঞ্চযোগে আসার পথে দুপুর পৌনে ২টার দিকে কালিগঞ্জ এলাকায় লঞ্চের মধ্যে স্ট্রোক করেন। এরপর লঞ্চ ভোলার ইলিশা ঘাটে ভিড়লে তাকে দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৫৮) বছর। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে, ২ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ